Shadow

ভোলার বাংলাবাজারে অপহরণকারীদের হাত থেকে স্কুলছাত্রী উদ্ধার l

এম. শরীফ হোসাইন, ভোলা॥ ভোলার উপ-শহর খ্যাত বাংলাবাজার এলাকা থেকে অপহরণকারীদের হাত থেকে এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা। অপহরণকারী দুই মহিলা ও বোরাক ড্রাইভারকে চিনতে না পারায় তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি। গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে স্কুলছাত্রীকে পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
অপহৃত স্কুলছাত্রী জানান, তিনি স্কুলের পরীক্ষা শেষে বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বোরাকে (স্থানীয় পরিবহণ) উঠেন। এমন সময় ওই বোরাকে আরো দুই জন মহিলা উঠে। এসময় ওই মহিলা দুই জন তাকে নানান প্রশ্ন করতে থাকনে। তোমার বাড়ী কই ? কোন ক্লাসে পড় ? ইত্যাদি ইত্যাদি। এক সময়ে বলে তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে। কিন্তু ওই স্কুল ছাত্রী তাতে রাজি হচ্ছিল না। এমন সময় অপহরণকারী ওই মহিলারদল তার নাকে একটি সাদা রুমাল ধরেন। এরপর তার আর কিছুই মনে নেই। এরই মধ্যে ওই বোরাক ভোলার বাংলাবাজার এলাকায় চলে আসে। তখন ওই স্কুল ছাত্রীটির জ্ঞান ফিরে আসলে গাড়ীর ভিরের মধ্যে পাচার চক্রের ওই  মহিলাদের কবল থেকে তাৎক্ষনিকভাবে সে বোরক থেকে নেমে পড়ে এবং বাংলাবাজারের চৌ-রাস্তার মোড়ে একটি দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। ভয়ে ওই স্কুল ছাত্রীটি কান্না-কাটি করতে থাকলে তা মানুষের নজরে আসে। এ সময় সেখানকার কয়েজন
দোকানী এবং পথচারী স্কুলছাত্রীটির কাছে কি হয়েছে জানতে চায়। কিন্তু ভয়ে সে এতটাই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলো যে সে কিছুই বলতে পারছিল না। একপর্যায়ে তাকে এক স্থানে বসিয়ে শান্ত করার পর সে কিছুটা বলতে পাড়ছিল আবার বলতে পারছিল না। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিল বার বার। ওই সময় সেখানে বিপুল সংখ্যক লোক জড়ো
হয়ে পড়ে। স্কুল ছাত্রীটি পাচার চক্রের ওই দুই মহিলা এবং বোরাক ড্রাইভারকে চিনতে না পারায় স্থানীয়রা তাদেরকে আর খুজে পায় নি।

এ প্রতিনিধি নিজের ব্যক্তিগত কাজে বাংলাবাজার এলাকায় যান। তখন মানুষের জটলা দেখে কি হয়েছে জানতে সামনে এগিয়ে গেলে ঘটনাটি শুনতে পান। ওই মুহূর্তে সবাইকে হৈ-চৈ না করার জন্য বলেন তিনি। পরিবেশটা একটু শান্ত হলে স্কুল ছাত্রীটিকে শান্ত¡না এবং অভয় দেয়ার পর এ প্রতিনিধির কাছে সব কিছু খুলে বলে সে। উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রীটির নাম রাজিয়া আক্তার রত্না। সে ভোলা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। তার রোল নং-৬২। তার বাবার নাম মোঃ সেলিম। তাদের বাসা ভোলা শহরের গাজীপুর রোডে। রত্নার বাবার মোবাইল নম্বর মুখস্ত থাকায় তাৎক্ষনিকভাবে তাকে ফোন করা হলে বাবা মোঃ সেলিম দ্রুত বাংলাবাজারে আসেন। এরপর বাবা সেলিমের কাছে তার মেয়ে রাজিয়া আক্তার রত্নাকে তুলে দেয়া হয়। এ সময় বাবা আর মেয়ে দু’জনই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে উভয় শান্ত হলে তাদেরকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে স্কুলছাত্রীর বাবা মোঃ সেলিমের সাথে কথা বললে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমার পরিবারকে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আমি আমার মেয়ে পেয়েছি, এর চেয়ে বড় কিছু নাই। এ কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি নি। এমন ঘটনায় বাংলাবাজারসহ ভোলায় স্কুল-কলেজ পড়–য়া অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। উপস্থিত একাধিক অভিভাবক বলছেন, ভোলার পরিবেশটা ভালোই ছিল। হঠাৎ করে হত্যা-খুন এর সাথে অপহরণকারীরা সক্রিয় হচ্ছে। এমন পরিবেশ
সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের অভিভাবকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কিভাবে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাবো। তাদের স্কুল-কলেজে পাঠিয়ে এখন আমাদের চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। তারা আরো বলছেন, আগে পুরুষরা ছেলে কিংবা মেয়ে ধরা হিসেবে সমাজে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন মহিলারা যদি এ কাজ করে তাহলে উপায় কি ? তাই স্কুল-কলেজ ছাত্র-ছাত্রীরে যাতায়াত এবং ভোলার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কঠোর নজরদারী ও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অভিভাবক মহল। তারা জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার মোঃ মোক্তার হোসেন এর সাথে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। ভোলার আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, সম্প্রতি ভোলায় হত্যা-খুন-এসিড নিক্ষেপের মত ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলার মিটিং-এ বিষয়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব অপরাধ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *