Shadow

রামগতিতে যুবলীগ নেতা সোয়েবের অবৈধ সম্রাজ্য

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা যুবলীগ নেতা মো: সোয়াইব হোসেন খন্দকাররের বিরুদ্ধে প্রশিকা ভবন, জেলা পরিষদের দোকান, লঞ্চ ঘাট দখল ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সহ নানা দখল বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবনে শিবির কর্মী বর্তমান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক-৩ মো: সোয়াইব হোসেন খন্দকার যুবলীগের পদ বাগিয়ে নেয়ার পর নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে মেতে উঠেন নানা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে। তুচ্ছ কথায় মানুষের বাড়ী ঘরে হামলা, মিথ্যা মামলা, মেঘনা সী বীচে স্পীডবোট সার্ভিস দখল, নতুন চর আবদুল্যাহ দখল সহ নানান অনৈতিক বাণিজ্যে। মেঘনা নদীতে স্পীড বোট থেকে মাসোয়ারা আদায়ে যারাই তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের মারধর, বাড়ী ঘরে হামলা, মিথ্যা মামালা সহ নানান ধরনের দমন পীড়ন চালিয়ে তার কবজায় নিয়ে নৌ-সা¤্রাজ্য পাকাপোক্ত করে নতুন চর আবদুল্যায় জমি দখল করেন। এরপর দখল করেন আসম আবদুর রব সরকারী কলেজের সামনের প্রশিকা ভবন। ভবনটি চর আলগী ইউনিয়নের জনৈক শাহেদ আলী মনু ইজারা নেয়। প্রশিকা নির্বাহী পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম হলেও সাবেক পরিচালক কাজী ফারুকের নামে ভূয়া ষ্টাম্প তৈরি করে তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক প্রকাশ্য দিবালোকে প্রশিকা ভবন দখল করে সেখানে ঝুলিয়ে দেন চাইনিজ রেষ্টুরেন্টের ব্যানার। প্রশিকা কর্মকর্তারা ইজারাদারকে ভবন সংস্কার করে বুঝিয়ে দেয়ার সময় সোয়েব খন্দকার ক্ষমতার জোরে অস্্র সহ তার হাফপ্যান্ট বাহিনী নিয়ে তা দখল করে। বর্তমানে সে সেখান থেকে রুম ভাড়া দিয়ে মাসে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন।

লঞ্চ যাত্রীরা জানান, সোয়েব খন্দকার আলেকজান্ডার বদ্দারহাট লঞ্চঘাট ইজারা নিয়ে টোল আদায়ে সরকারী মূল্যের চার পাঁচগুন বেশী টাকা আদায় করছে। যাত্রী প্রতি লঞ্চ ভাড়া নেয়া হচ্ছে দ্বিগুন যার অর্ধেক যায় ঘাট মালিক শোয়েবের পকেটে। যাত্রীদের সাথে থাকা সামান্য মালামালের জন্য নেয়া হচ্ছে টাকা। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কারণে অকারণে যাত্রীদের হয়রানী হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে।

দখল বিষয়ে প্রশিকা নির্বাহী পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, সোয়েব খন্দকার জোরপূর্বক আমাদের ভবনটি দখল করে নেন। এখনো পর্যন্ত ভবনের অর্ধেক অংশ বিভিন্ন লোকের কাছে ভাড়া দিয়ে সে ভোগ করছেন। আমরা তার দখল মুক্ত করতে আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছি।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাঈদ পারভেজ বলেন, সে আমার নাম ব্যবহার করে পৌর ৮নং ওয়ার্ডের সরকারী কলেজের পার্শ্ববর্তী প্রশিকা ভবন দখল করে নেন। সে নিজে একাই এটার বেনিফিশিয়ারী।

স্থানীয়রা আরো জানায়, সোয়েব যে বাড়ীতে বসবাস করেন সেটাও সমবায়ের জায়গা। তার পিতা মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেন খন্দকার সমবায়ের এডহক কমিটির আহবায়ক থাকার সুয়োগে সেই সময়ে তিনি কৌশলে তা কাগজপত্র জাল জালিয়াতি করে তা দখল করে নেন। আর সোয়েব সেখানে তৈরি করেন বিশাল আলিশান ভবন ও বাড়ীর সামনে স্থাপন করেন বরফকল এবং দোকানপাট।

অভিযোগের বিষয়ে সোয়াইব হোসেন খন্দকার বলেন, আমি বৈধ ভাবে কাজ করছি। আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার প্রতিপক্ষ এসকল অভিযোগ উত্থাপন করছে।