ভোলায় ডিজেলসহ বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি, ক্ষুব্ধ ভোক্তা সাধারণ

এম. শরীফ হোসাইন, ভোলা ॥ ভোলায় ডিজেলসহ বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস সাধারণ জনগণ। দ্রব্যমূল্যেও বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন, মিল-কারখানা, মাছ ধরার ট্রলার, লঞ্চ-স্টিমার, বরফকলসহ সকল পর্যায়ে। এতে মুদি মালামাল, তরিতরকারি, শাক-সবজিসহ কাঁচাবাজারের সকল খাদ্র দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে এসব দ্রব্যের মধ্যে মিনিকেট চাল ৬০-৭০ টাকা, ২৮ চাল ৫০-৫৫ টাকা, লাল চিনি ৯৪ টাকা, সাদা চিনি ৮০ টাকা, ডিজেল প্রতি কেজি ৮৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ টাকায়, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা, আখের গুড় কেজি ১২০ টাকা, মশুর ডাল ক্যাঙ্গারু ১৩০ টাকা থেকে ৯০ টাকা। এভাবে ময়দা, আটা, ভোজ্য তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় হঠাৎ করে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যাত্রীবাহি বাস, লঞ্চ-স্টিমারসহ নেট পরিবহন। শুরু হয় পরিবহণ ধর্মঘট। সাধারণ জনগণের অভিমত দাম বাড়াল সরকার, আর ধর্মঘট ডাকলেন পরিবহণ নেতারা। বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনবেন যারা, যানবাহন পড়বেন যারা, তাঁরাই বিপদে পড়লেন। এ আক্ষেপ ভোলার আপামর গ্রাম-গঞ্জের খেটে খাওয়া জেলে, কামার, শ্রমিক, কৃষিজীবিসহ সাধারণ মানুষের। তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সারাদেশের সড়ক পরিবহণ, নৌ-পরিবহণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি হা-হা-কা-র দেখা দিয়েছে। আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়লে যে অবস্থা হয়, ঠিক তেমন অবস্থাই হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের।
এদিকে নদী পড়ের মানুষদের চিত্র করুন। তাদের নুন আনতে পানতা ফুরোয়। অথচ নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার মূল্যের চড়া কষাঘাতে ঝিমিয়ে পড়েছে। তারা যেন সব কিছু হারিয়ে অসহায় অচেনা পথযাত্রী। কে খোঁজ নিবে তাদের ? কে আছে তাদের দেখার ? কেবল আল্লাহকে স্মরণ করে কোন রকম বেঁচে থাকার আর্তনাদ করছে নারী, শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। তাদের একটাই দাবী, সরকার আছে তাদের আখের গোছানোর জন্য। গরীব-দুঃখী মানুষের দিতে তাদের তাকানোর কোন লক্ষ্য নেই।
ডিজেল ও কেরোসিনের দাম একলাফে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর ভাড়া বাড়ানোর দাবীতে বাস-ট্রাক বন্ধ রেখেছেন মালিক-শ্রমিকরা। আর তেলের দাম কমানোর দাবীতে সকল ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা কর্মকান্ড বন্ধ রেখেছেন ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান নেতৃবৃন্দ। এ যেন পাটা-পুতার ঘষা-ঘষি মরিচের দফা ঠান্ডা। ধর্মঘটের কারণে সারাদেশের দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব ভোলা জেলাসহ প্রত্যন্ত জেলা ও উপজেলাগুলোতে পড়েছে। পিছিয়ে নেই লঞ্চ-স্টিমার মালিকগণও। তারাও ভাড়া বৃদ্ধিও জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গ্রাম-গঞ্জের বৃদ্ধ, যুবক সকলের মুখে একই কথা, তেল থাকলে বাতি জ্বলে, গাড়ীর চাকা জোরে ঘুরে। তেল নেই তো সবই বন্ধ। সেই তেল নিয়ে তেলেসমাতি করছে সরকার।
বৃদ্ধ আবুল হোসেন (৭৭) বলেন, ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি ১০ পয়সার ব্যবসার কথা। ১০ পয়সা ব্যবসা হলেই টনে টনে চাল-ডালের প্রচুর ব্যবসা। আর যদি লিটারে ১৫ টাকা বৃৃদ্ধি পায়, তা হলে কি অবস্থা হতে পারে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তা হলে বাতি জ্বালানো বন্ধ হয়ে যাবে ? তেলের অভাবে পানি পাবো না ? খেতে পারবো না দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে ? না খেয়ে মারা যাবো ? তা হলে সরকারের প্রয়োজন কী ? সরকার দিয়ে আমাদের কি কাজে আসবে ? আমাদের তো ভোটও দেয়া লাগে না। এ জন্যই আমাদের মারার জন্য এ ব্যবস্থা নিয়েছেন সরকার বাহাদুর। বাহ: এর নাম কি স্বাধীন বাংলাদেশ ?
মোঃ সালেম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এতে করে আমাদের মত ছোট ব্যবসায়ীরা পড়েছি বিপাকে। সরকারের এ খাম-খেয়ালিপনা যদি এভাবে চলতে থাকে তা হলে আমাদের পথে বসা ছাড়া কোন পথ দেখছি না। আমরা দুর্ভোগ চাই না, আমরা চাই শান্তি।
ভোলা জেলা মুদি মহাজন সমিতির সভাপতি মোঃ বাবুল মহাজনের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ডিজেল-কেরোসিনের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের মুদি ব্যবসায়ও এ্যাফেক্ট করেনি। সব কিছু আগের মতোই আছে। তিনি আরো বলেন, তেলের দাম বাড়লে কিছু কিছু দ্রব্যের দাম বাড়ে। কিছুটা দাম বেড়েছে, তবে পুরোপুরি এ্যাফেক্ট এখনো পড়েনি।
প্রায় একই বক্তব্য দিলেন ভোলা জেলা মুকি মহাজন সমিতির সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর ওমর ফারুক। তিনি বলেন, পূর্বের কেনা মালামাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে পরিবহণ বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছুটা সমস্য দেখা দিয়েছে। তেমনি চাল আড়ৎ মালিখ সমিতির সভাপতি মোঃ মোসলেহ উদ্দিন মিয়া, সম্পাদক এফরানুর রহমান মিথুন মোল্লা একই বক্তব্য দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

Friday, May 13, 2022

সর্বশেষ