মামলা ৬ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বেসরকারি তবু বাদী পুলিশ, বাঁশখালীতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ

বাঁশখালী(চট্টগ্রাম)সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের রক্তাক্ত বাঁশখালীর গণ্ডামারা এখন আতঙ্ক, শোক ও ক্ষোভের জনপদ। সামগ্রিক অবস্থা থমথমে। দায়ের হওয়া তিন মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষকে। প্রতিষ্ঠান বেসরকারি হলেও এসব মামলার বাদী পুলিশ। তাই গ্রেফতার-হয়রানি আতঙ্কে অনেকেই এখন এলাকাছাড়া।

এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পুলিশ এবং প্রকল্পের পক্ষ-বিপক্ষের গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গতকাল শেষ খবর  পাওয়া পর্যন্ত চারটি লাশের সন্ধান মিলেছে।

গতকাল সকালেই এলাকার নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর, বৃদ্ধরা ক্ষোভ-প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পড়েন। প্রতিটি মোড়ে হচ্ছে নীরব প্রতিবাদ সভা। অসংখ্য বঞ্চিত মানুষ প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু নেপথ্যের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বাঁশখালী থানাসূত্রে জানা যায়, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সরকারি লোকজনের ওপর হামলার ঘটনায় বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাহার মিয়া বাদী হয়ে ৫৭ জনের নাম উল্লেখ ও ৩২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করেছেন। তা ছাড়া নিহত দুই সহোদর ও জামাতার পরিবারের পক্ষে মাওলানা বশির আহমদ বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৪০০ থেকে ১৫০০ জনকে আসামি করে একটি এবং নিহত জাকের আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৮০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। তা ছাড়া এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মুমিনুর রশিদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুমিনুর রশিদ বলেন, ‘এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সময়মতো প্রতিবেদন প্রকাশ করব।’ বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে পুলিশ জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আমরা রক্তের বিনিময়ে হলেও চার নিহতের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। আমাদের বাপ-দাদার ভিটামাটি ছেড়ে যাব কোথায়?’

গ্রেফতার ৩ : বাঁশখালীর ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন আবদুল খালেক (২৪), জহিরুল ইসলাম (৪০), মহিউদ্দিন (২০)। তারা সবাই উপজেলার গণ্ডামরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এর মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপনকুমার মজুমদার বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের ওপর গুলি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তা ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।’

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৪ : বাঁশখালীর রক্তাক্ত ঘটনায় আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি, ১৯ ও ২৬ ওয়ার্ডে পুলিশের চার সদস্যসহ মোট ১৪ জন চিকিৎসাধীন আছেন। আহতরা হলেন মুজিবুর রহমান (২০), আনসার উদ্দিন (৩০), জহির আলম (৩০), আবদুল খালেক (২৫), আবু খান (৫০), মোতালেব (২৩), নুরুল ইসলাম (১৮)। পুলিশ সদস্যের মধ্যে আছেন মিরাজ উদ্দিন (২৮), নুরুল কবির (২৯), ওয়াসিম (২২), কনকচন্দ্র সিংহ (২৪)। তা ছাড়া তিনজনের কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়।

বাঁশখালীর ঘটনায় নিহতরা হলেন গণ্ডমারা ইউনিয়নের চরপাড়ার আশরাফ আলী বাড়ির মরতুজা আলী (৩৫), জাকের আহমদ (৩৭), মো. আনোয়ারুল ইসলাম (৪৪), জাকের হোসেন (৩৫)। গতকাল চমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে চারজনের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে দাবি করেছেন নিহত ও আহতের স্বজনরা। তবে তাদের লাশ ‘নিখোঁজ’ করা হয় বলেও তারা দাবি করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশ : গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে চারজন সাধারণ নিরীহ মানুষ নিহতের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা যে কোনো মূল্যে বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ঠেকানোয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। এ সময় তারা বাপ-দাদার ভিটামাটি রক্ষার কথা ব্যক্ত করেন। তা ছাড়া গতকাল সকালে গণ্ডামারা হাদীর পাড়া, রহমানিয়া মাদ্রাসা মাঠ, হাটখালী বাজার, গণ্ডমারা ব্রিজ এলাকাসহ আশপাশের আরও একাধিক স্থানে এলাকাবাসী সমবেত হয়ে প্রতিবাদ সভা করে। সমাবেশ থেকে এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রবিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

সরেজমিন : গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার হাদীর পাড়া ও রহমানিয়া মাদ্রাসার মাঠ এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে রয়েছে পুলিশি হামলায় ভেঙে দেওয়া ‘বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটি’র মাইক ও সিএনজি অটোরিকশা। মাঠের বিভিন্ন অংশে এখনো দেখা যাচ্ছে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। রহমানিয়া মাদ্রাসার দেয়াল ও আশপাশের বিভিন্ন গাছে রয়েছে গুলির দাগ। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাড়িতে বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। চলছে মাতম। সংঘর্ষে আহতদের অনেকেই মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে নিজ ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ আছেন পালিয়ে। অন্যদিকে, সোমবার রাত থেকেই গণ্ডামারা ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রবেশপথে পাহারা বসিয়েছে গ্রামবাসী। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কেউ নেই, এমনটি নিশ্চিত হয়েই যাতায়াতকারীদের গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। পক্ষান্তরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্মিত প্রকল্প কার্যালয় গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিল। দেখা যায়নি প্রকল্পের পাহারাদার ও আনসার সদস্যদেরও।

নিহতের স্বজনদের ক্ষোভ : নিহতদের পরিবারে এখন চলছে মাতম। স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে তারা এখন পাথর হয়ে আছেন। নিহত আনোয়ারুল ইসলামের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার অবিবাহিত তিনটি মেয়ে ও একটি ছেলে। তাদের নিয়ে এখন আমি কী করব? কী হবে আমার? তাদের খাওয়াবে কে? লেখাপড়ার কী হবে?’ তিনি কথা বলার সময় তার তিন মেয়ের চোখেমুখেও হতাশার ছাপ দেখা যায়। নিহত মর্তুজা আলীর স্ত্রী নুরজাহান বলেন, ‘আমার এক মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে সংসার। মেয়ের বিয়ে হলেও দুই ছেলে এখনো ছোট। এখন কে চালাবে আমাদের সংসার?’

প্রসঙ্গত, সোমবার বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডমারা ইউনিয়নের হাজীপাড়া স্কুলমাঠে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে সমাবেশ আহ্বান করেন স্থানীয়রা। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আধঘণ্টা আগে স্থানীয় এমপির পক্ষে মাইকিং করে পাল্টা সমাবেশের ডাক দেয় অন্য পক্ষ। একই স্থানে দুটি সমাবেশের ডাক দেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টির শঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সময় চরম উত্তেজনার এক পর্যায়ে পুলিশ ও জনতা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ উপস্থিত জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের সঙ্গে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পক্ষের লোকজনও অতর্কিত গুলিবর্ষণ করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় চারজন নিহত ও অর্ধশত মানুষ আহত হন।

জানা যায়, বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ উত্পাদন খাতে দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গণ্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনায়। চায়না সেবকো এইচটিজির সঙ্গে যৌথভাবে ৬০০ একর জমির ওপর ২০ হাজার কোটি টাকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে এস আলম গ্রুপ। কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৭০ শতাংশের মালিকানা এস আলম গ্রুপের। ৩০ শতাংশের মালিকানা চীনা প্রতিষ্ঠানের। বিনিয়োগ করা ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার মালিকানা ও ঋণ দিচ্ছে চীনের প্রতিষ্ঠান দুটি।

আজ বাঁশখালীতে হরতাল আহ্বান : কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলি ও হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার বাঁশখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ছাত্র ঐক্য ফোরাম। গতকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে হরতালের ডাক দেন ফোরামের আহ্বায়ক শাহনেওয়াজ চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা অকল্পনীয়। এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গ্রামবাসীর ওপর গুলিতে চারজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। তাই আমরা আজ বাঁশখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছি।

মানববন্ধনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাঁশখালী ছাত্র ঐক্য ফোরাম, বাঁশখালী স্বপ্নতরী সংঘ, গণসংহতি সমিতি চট্টগ্রামসহ বেশ কিছু সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুনসহ অংশ নেন।

নীরব এমপি : গণ্ডামারা ইউনিয়নের জনবসতিপূর্ণ এলাকার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে গুলিতে চারজন নিহতের ঘটনায় সরকারদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান নীরব। এমপির নীরবতায় ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন শোকাহত এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিজ নির্বাচনী এলাকার চারজন মানুষ গুলিতে নিহত হন। অথচ এখনো পর্যন্ত স্থানীয় এমপি কোনো খোঁজখবর নেননি। বরং তারই নির্দেশে পুলিশ ও এস আলম গ্রুপের পক্ষের লোকজন শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিনা উসকানিতে গুলি চালিয়েছে। গতকাল বিকালে পৃথকভাবে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনো জানাজায় উপস্থিত ছিলেন না এমপি মোস্তাফিজুর রহমান। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গণ্ডামারার বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, চারজন নিরীহ মানুষ মারা গেলেন। অথচ এমপি এখনো পর্যন্ত কাউকে দেখতে বা জানাজায় অংশ নেননি।

বসত ভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বলেন, জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কয়লা বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের নেপথ্য নায়ক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান। তার ইন্ধনে শান্তিপূর্ণ জনতার সমাবেশে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা গুলি চালানো হয়।

কয়লা বিদ্যুেকন্দ্র কার্যালয়ে পুলিশি প্রহরা : বাঁশখালীর গণ্ডামারায় স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সংঘর্ষের পর এস আলম কয়লা বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পের কার্যালয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে পুলিশের ১৩ জনের একটি দল এ অফিসে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল সকালে দেখা যায়, কয়লা বিদ্যুেকন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ অফিসের আশপাশে শক্ত অবস্থানে আছেন পুলিশ সদস্যরা। তারা বলেন, গত সোমবার রাত থেকে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ পাখির মতো  গুলি করে মানুষ মারছে—  হান্নান শাহ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, এ সরকারের আমলে পুলিশ পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করছে। কেবল ভোটারবিহীন সরকারের পক্ষেই এ ধরনের অমানবিক কাজ করা সম্ভব। বিএনপির সামনের দিনগুলো পরিষ্কার এবং আওয়ামী লীগের অন্ধকার। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রতিবাদী যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্বাধীনতা ফোরাম এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামছুজ্জামান দুদু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

হান্নান শাহ বলেন, সরকার এ দেশের বিচার ব্যবস্থাকে নিজেদের কলকব্জার মধ্যে বেঁধে রেখেছে। দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারছে না। এ দেশের সম্পদ অন্য দেশে চলে যাচ্ছে, লুটপাট হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা ব্যস্ত খালেদা জিয়াকে এবং তার দল বিএনপিকে দমনে। তাই সাধারণ মানুষ তাদের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছে না।

তিনি বলেন, পুলিশ লাইসেন্সকৃত সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে মানুষের ওপর গুলি করে তাজা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। এ দেশের পুলিশ বাহিনীর কাজ হলো সরকারের গোলামি করা। কিন্তু কিছু হলেই মানুষের ওপর গুলি করে, জেলে নিয়ে নির্যাতন করে। জনগণ পুলিশের কাছে এখন জিম্মি। তারা আবার জনগণকে ভয় দেখায়, আর বলে, তারাই নাকি দেশের অভিভাবক।

হান্নান শাহ বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক ‘বানোয়াট মামলা’ দিচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে কোথায়, কখন, কী মামলা হয়, সেটাও জানি না। রাজনীতিবিদদের চরিত্র হরণ করার উদ্দেশ্যেই এসব  মামলা দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

Tuesday, September 21, 2021

সর্বশেষ