দেশের মানুষ এখন ন্যায় বিচার পাচ্ছেন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক : সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ এখন ন্যায় বিচার পাচ্ছেন। আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন-উত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, বিকেল ৫টায় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রোধে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, সবধরনের জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুম দাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার পুলিশসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে নির্দেশ প্রদান করেছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সংসদ নেতা বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার ফলে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে দেশি-বিদেশি নাগরিকরা তাদের জীবন-যাপন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকার ফলে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তাসহ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সকল প্রকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ নিয়মিত মামলার আসামী গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সকল প্রকার নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সভা-সমাবেশে আলোচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা সংক্রান্ত মামলার রহস্য উদঘাটনে সফলতার পরিচয় দিয়েছে। সন্ত্রাসী, হামলা, অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কূটনৈতিক ও বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পুলিশ কর্তৃক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকান্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পর্যটন এলাকায় ভ্রমণকারী বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম অধিকতর জোরদার, বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত ও অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং থানা এলাকার বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়াদের নাম ঠিকানাসহ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি সংযোগ করা হচ্ছে ও পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। ফলে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে দেশী বিদেশী নাগরিকরা তাদের জীবনযাপন ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে।

আরও পড়ুন

Thursday, September 16, 2021

সর্বশেষ