একান্ত স্বাক্ষাতকারে ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সাংগঠনিক চেয়ার প্রতিষ্ঠা ও স্বর্ণপদক প্রবর্তনের দাবী।

%e0%a6%ab%e0%a6%9c%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%81-%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%beমীর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী আওয়ামীলীগ এর প্রতিষ্ঠাতা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামে জাতীয় সাংগঠনিক চেয়ার প্রতিষ্ঠা ও বঙ্গবন্ধুর নামে শ্রেষ্ঠ সংগঠকদের জন্য জাতীয় দলীয় স্বর্নপদক প্রবর্তন করার দাবী জানিয়েছেন ভোলা জেলা আ’লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা। আ’লীগের  ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে তিনি এক স্বাক্ষাতকারে এ দাবী জানিয়েছেন।
একান্ত স্বাক্ষাতকারে ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা বলেন, ২২-২৩শে অক্টোবর  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ২০তম জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে সারাদেশে নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা  সৃষ্টি হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব তত্ত্বাবধায়নে এবারের জাতীয় সম্মেলনের আকার, আকৃতিতে বর্ণাঢ্য সম্মেলন হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে তিনি ধারনা করছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠার ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অত্যন্ত জাক-জমকভাবে উদযাপন করেছে। সংগঠনের ৬৭ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বাধীনতা সংগ্রামে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক ধংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে পূর্ণগঠন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মূহূর্তে সাম্রাজ্যবাদ ও পাকিস্তনি  দোর্সরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে ।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২১বছর আমাদের স্বাধীনতার শত্রুরা বাংলাদেশকে শাসন করে। আমাদের স্বাধীনতার মূূল্যবোধ ও চেতনাকে উল্টো দিকে গুড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে দেশে চলে সন্ত্রাস ও লুন্ঠন এর ভয়াবহ তান্ডবলীলা। ফলে ধংস হয়ে যায় আমাদের অর্থনীতি, হারিয়ে যায় মানবিক মূল্যবোধ। এই অবস্থার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল আওয়ামীলীগ এর সমর্থনে দলের সভাপতি হিসেবে সর্বসম্মত ভাবে নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে নিজ স্বদেশে ফিরে আসেন তিনি। এই ফিরে আসার মধ্য দিয়ে ৩৫ বছর এর দীর্ঘ পথ চলার অভিযাত্রা শুরু তার। এই অভিযাত্রায় তাকে নিতে হয়েছে জীবনের অনেক ঝুঁকি, সহ্য করতে হয়েছে জেল জুলুম নির্যাতন। ৩৫ বছর ধরে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে ২১ বার তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাড়াতে হয়েছে। সর্বোপরি ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এ্যভিনিউতে আওয়ামীলীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্রেনেড এর মুহুর-মুহুর আক্রমনের আঘাত থেকে আল্লাহর অসীম রহমতে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান জননেত্রী শেখ হাসিনা।
মজনু মোল্লা আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব লাভের পর নিরলস প্ররিশ্রমের কারণে দলে নতুন প্রাণশক্তি ফিরে পায়। তীক্ষè মেধা ও দূরদর্শীতায় সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করে দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবশেষে আন্দোলন-সংগ্রামের সফলতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর এর প্রতিক্ষার অবসান ঘটে। ১৯৯৬ সালে জনগণের রায়ে রাষ্ট ক্ষমতার লাভের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রগতির নতুন ধারা। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু যেমন ২৩ বছর পাকিস্তানি গোলামির বিরুদ্ধে জীবনের ঝুকি নিয়ে লড়াই সংগ্রাম করে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তেমনি করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দলের  সভাপতি নির্বাচিত হয়ে জেল-জুলুম নির্যাতন মোকাবেলা করে, মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে ২১ বছর এর আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় দলকে রাষ্টীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করেন, দেশকে উন্নয়ন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন । বাংলাদেশ আজ আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে এক সমাদৃত দেশে পরিনিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্ব নেত্রী ও আর্ন্তজাতিক সমাজের নানা পদক ও সম্মানে ভূষিত। বাংলাদেশ আজ উন্নত দেশের পর্যায় উপনিত হওয়ার দ্বার প্রান্তে। ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২০১৬ কে সামনে রেখে জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার কল্যানে ও পরিচালনায় দেশ এবং দলীয় সংগঠন নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় উম্মুখ হয়ে আছে।
তিনি দ্ব্যর্থ ভাষায় বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আমাদের অন্যকোনো নেতৃত্বই এযাবতকালে এখন পযন্ত বঙ্গবন্ধুর গড়ে তোলা সংগঠন আওয়ামীলীগ এবং সংগঠনের পক্ষ পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন বা সম্মানিত করতে পারি নাই। তাই জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে তৃণমূল আওয়ামীলীগ এর পক্ষে আমার প্রস্তাব হলো বঙ্গবন্ধুর নামে সাংগঠনিক স্বর্ণপদক প্রবর্তন করা হউক। যাতে ত্যাগি নেতা কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর অমর কৃতির নামে মূল্যায়িত হবে। এ ছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে জাতীয় চেয়ার আওয়ামীলীগ এর নামে প্রতিষ্ঠা করা হউক। এই চেয়ার এর প্রথম মনোনিত ব্যক্তি হবেন সফল সংগঠক জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ২০তম সম্মেলনে এই প্রত্যাশাই কামনা করেছেন ভোলা জেলা আ’লীগের দুইবারের নির্বাচিত সফল সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা।

Save

Save

আরও পড়ুন

Tuesday, October 19, 2021

সর্বশেষ