দৌলতখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পালিয়ে যাাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থীরা !

ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলার দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থী বাছাইয়ে ভূল সিদ্ধান্তের কারণে ধানের শীষের জনপ্রিয়তা ধাকলেও তা বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় দৌলতখান উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে সবকটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সীমানা জটিলতায় আটকে যায় দৌলতখানের সৈয়দপুর ও হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আগামী ১৬ এপ্রিল ওই দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে দল থেকে হাজিপুর ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল ফরাজীকে ধানের শীষ প্রতিকে প্রার্থী দেয়া হয়। গত ১৯ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত জয়নাল ফরাজী মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাননি উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। যাবেন কি করে ! তিনি তো মনোনয়নপত্র-ই সংগ্রহ করেন নি।
এহেন পরিস্থিতিতে ওই ইউনিয়নের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ-হতাশা বিরাজ করছে। শুধু ওই ইউনিয়নেই নয়; বরং পুরো দৌলতখান উপজেলায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, তৃণমূল নেতা-কর্মীদৈর মতামত উপেক্ষা করে সাবেক সাংসদ হাফিজ ইব্রাহীম প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্তটি ভূল ছিল। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপ করে যোগ্য প্রার্থীকে যদি মনোনয়ন দিতেন তাহলে এরকম পরিস্থিতিতে পরতে হতো না বিএনপিকে। তাই বিএনপি আজ সাংগঠনিকভাবে বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।
স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, জয়নাল ফরাজী অনেক আগ থেকেই আওয়মী লীগের সাথে আতাত করে চলে আসছে। বর্তমান সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের সাথেও তার রয়েছে গভীর সখ্যতা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি মনোনয়ন পত্রই সংগ্রহ করেননি। তা জানা সত্ত্বেও কিভাবে হাফিজ ইব্রাহিম জয়নাল ফরাজীকে মনোনয়ন দিলেন ? তার এই একক সিদ্ধান্তের কারণে পুরো দৌলতখান উপজেলা বিএনপি আজ ধ্বংসের দাড় প্রান্তে। তার এই মনগড়া সিদ্ধান্তের কারণে তৃণমূল থেকে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। তিনি যোগ্য ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা করে অযোগ্য লোকদের প্রাধান্য দিয়ে দল চালাচ্ছেন। ফলে বিএনপি এখন বিভাজনের মুখে।
এরকম চিত্র শুধু হাজিপুর ইউনিয়নেই নয়, দৌলতখান উপজেলার প্রায় ইউনিয়নেই ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীরা মোটা অর্থের মাধ্যমে বিনিময়ে সরকার দলীয় প্রার্থীদের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর মার্চ মাসে ইউপি নির্বাচনে চরখলিফা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন হাওলাদার ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু প্রত্যাহারের শেষ দিন সরকার দলীয় প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে গোপনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে আত্মগোপনে চলে যান। একই ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে ঢাকার এক টাইলস্ দোকানের কর্মচারী আওয়ামী লীগ থেকে আসা শহিদ নামের পাতি নেতাকে বিএনপির প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। তিনিও প্রত্যাহারের শেষ দিনে হারুন হাওলাদারের মত একই ঘটনা ঘটিয়েছেন। সে এখন আবার আওয়ামীলীগ করছেন।
ভবানীপুর ইউনিয়নের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিক দেয়া হয়েছিল যুবদল নেতা সিরাজকে। সেও ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
চরপাতা ইউনিয়নে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিক দেয়া হয়েছিল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মন্নান হাওলাদারকে। তিনি মনোনয়নপত্র  জমা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কোন নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন নি। এমনকি কোথাও প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ করেননি। ওই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার জন্য ব্যাপক শো-ডাউন, দৌড়-ঝাপ করেও দলের মনোনয়ন পাননি তরুণ নেতা মীর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
সাবেক সাংসদ হাফিজ ইব্রাহীম দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তের কারণেই আজ দৌলতখান উপজেলা বিএনপির এ করুন পরিস্থিতি। নেতা-কর্মীরা এ জন্য তাকেই দায়ী করছেন।
এদিকে আগামী ১৬ এপ্রিল সৈয়দপুর ও হাজিপুর ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সীমানা জটিলতা থেকেই যায়। যার কারণে ওই নির্বাচন আবারোও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

Wednesday, December 8, 2021

সর্বশেষ