ভোলায় সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে রামরাজত্ব কায়েম করছে এক ইউপি সদস্য

মীর মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, ভোলা ॥ সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এক ইউপির সদস্য এলাকায় ভূমি দখল ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যখন যেই সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের সাথে আতাত করে দীর্ঘ বছর ধরে ওই ইউপি সদস্য ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলগীরের ভূমিদস্যুতাসহ রামরাজত্বের নানান কাহিনী। ওই ইউনিয়নের আ.লীগ নেতা তুহিন মাতাব্বর অভিযোগ করেছেন, আলমগীর মেম্বার কখোনই আ.লীগ করতো না। বর্তমানে আ.লীগের ছত্রছায়ায় থেকে এলাকার মানুষকে জিম্মী করে আলমগীর মেম্বার জমি জবর দখল, চাদাবাজি লুটপাটসহ এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করছে। তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খলতে সাহস পাচ্ছে না। জমি দখল ও চাদাবাজি তার এখন পেশায় পরিনত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ এপ্রিল আলমগীর মেম্বারের নেতৃত্বে তার পালিত ক্যাডার মিরাজসহ ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গজারিয়া বাজারের জহিরের মালিকানাধিন দোকানে ঘর দখল নেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়া দোকানদার জসিমউদ্দিনকে ব্যাপক মারধর করে। খবর পেয়ে মালিক জহিরউদ্দিন তাকে বাচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে আলমগীর বাহিনী। জহিরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। হামলার ঘটনায় জহির ফিরোজসহ ৫/৭ জন আহত হয়েছেন। এদিকে সন্ত্রাসী আলমগীর বাহিনী কর্তৃক হামলা ও জমি দখলের খবর পেয়ে লালমোহন উপজেলার চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন ভাইস চেয়ারম্যান ফকরুদ্দিনসহ স্থানীয় আ.লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি সংসদ সদস্য নুরনবী চৌধুরী শাওনকে অবহিত করেন। পরে তিনি বিষয়টি মিমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আ.লীগ নেতাদের নির্দেশ দেন। জহিরউদ্দিন জানায়, সন্ত্রাসী আলমগীর ও তার ক্যাডার মিরাজ আমার বাড়িতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে মামলা না করার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসে। মামলা করলে পরিনতি ভয়াবহ হবে বলে হুসিয়ারী দিয়ে যায়। এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি আলমগীর মেম্বারের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আলমগীর মেম্বার কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন

Wednesday, December 8, 2021

সর্বশেষ