ভোটের হাওয়া ভোলা-৪ চরফ্যাশন-মনপুরা আসনে আলীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী

ভোলা প্রতিনিধি ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনটি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক হিসেব নিকেশ শুরু করে দিয়েছেন। আ’লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পেতে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। শুরু করেছেন প্রচার-প্রারণা ও লবিং। নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে গঠন করছেন তৃণমূলপর্যায়ে দলীয় কমিটি, চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মী সমাবেশ ও গণসংযোগ।
এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব গত সাড়ে ৮ বছরে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেন। তবে দলের ত্যাগী দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। যে সমস্ত উন্নয়ন কাজের নগদ বিল আছে ওইসব কাজ উপ-মন্ত্রী নিজেই করতেন। আর যে কাজের বিল পেতে বিলম্ব হবে এমন কিছু কাজ দলের কিছু নেতা-কর্মীর কাছ থেকে কমিশন নিয়ে কাজ দেয়া হতো, এসব কাজ নিয়ে অনেক নেতা কর্মী পথে বসে গেছেন। মোটা অঙ্কের কমিশন পাওয়ার জন্য বিএনপির ঠিকাদারদের কাজ দেয়া হতো। যা এলাকায় সবার মুখে মুখে ওপেনসিক্রেট।
দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের যথাযথভাবে মূল্যায়িত না হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ আর চাপা ক্ষোভ। যা আগামী নির্বাচনে এ ক্ষোভের বর্হি:প্রকাশ ঘটতে পারে। ফলে নির্বাচনে কর্মী সংকটে পড়তে পাড়ে আওয়ামী লীগ। তৃণমূলের আওয়ামী লীগের এই ক্ষোভের বরফ না গললে শেষ সময়ে টাকা খরচ করেও নির্বাচনী ফল ঘরে তোলা যাবেনা। ফলে ব্যপক ভরাডুবির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দলের ত্যাগি ও প্রবীণ নেতা-কর্মীরা মনে করেন প্রার্থী পরিবর্তণ হলে তৃণমুলে আওয়ামী লীগের চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিরসন হতে পারে এবং নির্বাচনী ফল ঘরে তোলা যাবে।
অপরদিকে বিএনপি ও জামায়াত থেকে আসা নেতা-কর্মীদের দলীয় পদ-পদবী, চাকরি ও ঠিকাদারীসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দলীয় কর্মীদের বঞ্চিত করায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। অনেক ইউনিয়ন আ’লীগ চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা নেতারা। যদিও শেষ সময় সুযোগ সন্ধানী বিএনপি নেতাদের আসল রূপ বেরিয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখানে আগামী নির্বাচনে পরিবেশ ও বন উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জালানী মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন, সাবেক যুগ্ম সচিব এ কে এম আবদুস সালাম সেলিম, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মেজবাহ উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ১/১১’র শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোনকারী রাষ্ট্রদোহী মামলার আসামী সাবেক ছাত্রলীগের জন প্রিয় নেতা মাকসুদুর রহমান মাকসুদ লবিং ও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিএনপির থেকে সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক চরফ্যাশনের কৃতি সন্তান নুরুল ইসলাম নয়ন, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী লায়ন নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী আ. শহীদ মালতিয়ার ছোট ভাই মাকসুদ মালতিয়া মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং করছেন।
জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি কেফায়েতুল্লা নজিব, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে চরফ্যাশনের বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন হাজী মনোনয়ন চাচ্ছেন।

আরও পড়ুন

Sunday, November 28, 2021

সর্বশেষ