Home প্রচ্ছদ এসো রেপার্টরী শিখি ৩ মাসে হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরী আয়ত্তের কৌশল

এসো রেপার্টরী শিখি ৩ মাসে হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরী আয়ত্তের কৌশল

0
1101

প্রিয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদের নিকট এমন একটি কৌশল বা টেকনিক নিয়ে আলোচনা করব যাতে করে আপনি তিন মাসের অধ্যয়ন ও প্রচেষ্টায় রেপার্টরী নামক কৌশলপূর্ণ গ্রন্থকে আয়ত্ত করতে পারেন। তিন মাসের এই প্রোগ্রাম যদি আপনি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন আমার বিশ্বাস কমপক্ষে ৪০০০ ওষুধ ও ১,৫০,০০০ লক্ষণের সাথে পরিচিত হবেন। শুধু পরিচিতিই বা বলি কেন, আপনার জানা বা অজানা যে কোন লক্ষণের কি কি ওষুধ হতে পারে তার সম্ভাব্য ওষুধ তালিকা জানতে পারবেন। আপনার জন্য এই জ্ঞান যে কত বিশাল তা একবার ভাবুনতো। বাংলাদেশের চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্সে (ডিএইচএমএস) (২৫+১৮+১২+৩০+৩১)=১১৬টি ওষুধ পড়ে এবং ২০/৩০ বৎসর হোমিওপ্যাথি চর্চা করেও যা জানতে পারেননি তা যদি তিন মাসে শেখা যায় সে প্রাপ্তির মূল্যায়ণ করুন, তারপর সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।
রেপার্টরীতে আপনি –
যে কোন রোগীর যে কোন লক্ষণের কি কি ওষুধ আমাদের মেটেরিয়া মেডিকায় লেখা হয়েছে তার তালিকা পাবেন ।
ওষুধের গ্রেডিং বা মূল্যমান বা সেই লক্ষণে ওষুধটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানতে পারবেন ।
যে কোন অদ্ভুত, অসাধারণ লক্ষণের (RUPS) সঠিক ওষুধটি কি কি হতে পারে তা আপনি জানতে পারবেন (সংক্ষেপে RUPS, যার পূর্ণ রূপ হচ্ছে-R=Rare, U=Uncommon, P=Peculiar, S=Striking, অর্গানন ১৫৩ অনুচ্ছেদ) ।
এক বা একাধিক লক্ষণ বা লক্ষণ সমষ্টির দ্বারা ওষুধ নির্বাচনের যে নীতি হ্যানিম্যান অর্গানন অব মেডিসিন গ্রন্থে বলেছেন তার প্রকৃত বাস্তবায়ন করা যায় এই রেপার্টরী গ্রন্থের তথ্যের দ্বারা।
তারপর ! সে তথ্য মেটেরিয়া মেডিকায় যাচাই করে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সাথে সঠিক ওষুধটি নির্বাচন করতে আপনি অবশ্যই সক্ষম হবেন।
বলুনত দুধের ন্যায় প্রস্রাব (Milky Urine) হলে “এসিড ফস” ছাড়া আর কি কি ওষুধের নাম আপনি স্মরণ করতে পারছেন ?
সিন্থেসিস রেপার্টরীতে দুধের ন্যায় প্রস্রাব লক্ষণটির ওষুধাবলীর তালিকাটি দেখুন- এখানে মোট ৬২টি ওষুধের উল্লেখ আছে, বুকে হাত দিয়ে বলুনত প্রথম শ্রেণীর ৫টি ওষুধের নাম কয়জনে বলতে পারব, এখানে ৫টি ১ম শ্রেণীর, ১৮টি ২য় শ্রেণীর এবং ৩৯টি ৩য় শ্রেণীর ওষুধের তালিকা দেখতে পাবেন। (ফেইসবুকে ২য় শ্রেণির ওষুধ কেন জানি ইটালিক বা বাঁকা হরফে হয় না, সেজন্য *চিহ্ন দেয়া হয়েছে )

URINE – MILKY (62=0+5+18+39)
*Agar. *Alum. ambr. ant-t. APIS arn. AUR. *Aur-m. berb. bov. caj. *Calc. cann-s. caps. *Carb-v. card-m. caust. chel. chin. chinin-s. *Cina clem. *Coloc. con. cop. cycl. *Dulc. eup-pur. *Ferr. *Ferr-i. gels. HEP. *Iod. kali-bi. kali-p. lappa *Lil-t. LYC. merc. merc-c. *Mur-ac. nat-m. *Nit-ac. nux-v. petros. PH-AC. *Phos. plb. pot-e. raph. rhus-t. *Sep. spirae. stann. still. sul-i. *Sulph. uran-met. *Uran-n. uva viol-o. visc.

১ম শ্রেণীর ওষুধ (৫টি)
APIS AUR. HEP. LYC. PH-AC.

২য় শ্রেণীর ওষুধ (১৮টি)
Agar. Alum. Aur-m. Calc. Carb-v. Cina Coloc. Dulc. Ferr. Ferr-i. Iod. Lil-t. Mur-ac. Nit-ac. Phos. Sep. Sulph. Uran-n.

৩য় শ্রেণীর ওষুধ (৩৯টি)
ambr. ant-t. arn. berb. bov. caj. cann-s. caps. card-m. caust. chel. chin. chinin-s. clem. con. cop. cycl. eup-pur. gels. kali-bi. kali-p. lappa merc. merc-c. nat-m. nux-v. petros. plb. pot-e. raph. rhus-t. spirae. stann. still. sul-i. uran-met. uva viol-o. visc.

রেপার্টরী ছাড়া শুধু মেটেরিয়া মেডিকা খুঁজে কত দিনে দুধের ন্যায় প্রস্রাবের ওষুধগুলো কি কি তা জানতে পারবেন ? রেপার্টরী আপনাকে এরূপ ১,৫০,০০০ লক্ষণের ওষুধ তালিকা দিতে পারে।
এই একটি উদাহরণ থেকেই অনুমিত হয় যে রেপার্টরী শেখার প্রয়োজন আছে না নাই ।

হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরীকে আয়ত্ব করতে হলে আপনাকে রেপার্টরীর বেসিক কিছু বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হবে। বিশেষ করে হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরী রচনার একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আপনার জানা থাকলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে রেপার্টরীর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা সহজ হবে।

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকাকে ভিত্তি করে হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরী রচনার সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা একটি লক্ষণ সমুদ্র বিশেষ। এই মহাগ্রন্থে সুস্থ মানবদেহে প্রুভিংকৃত বা পরীক্ষিত প্রতিটি ওষুধের বিপরীতে উক্ত ওষুধের দ্বারা সৃষ্ট লক্ষণাবলী বা আরোগ্যকারী লক্ষণাবলীকে ধারাবাহিকভাবে ও কার্যসিদ্ধির উপযোগী করে লিপিবদ্ধ করা হয়ে থাকে (Schematic order), ফলে প্রতিটি ওষুধের অসংখ্য লক্ষণের সমাহারের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয় বিশুদ্ধ হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকার। অর্গানন অব মেডিসিন গ্রন্থের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে কেন এবং কিভাবে ড্রাগ প্রুভিং এর মাধ্যমে মেটেরিয়া মেডিকা রচিত হবে তার নির্দেশনা হ্যানিম্যান দিয়েছেন। হ্যানিম্যান রচিত ৩টি প্রামান্য গ্রন্থ (১) ফ্রাগমেন্টা ডি ভেরিবাস, (২) মেটেরিয়া মেডিকা পিউরা এবং (৩) ক্রনিক ডিজিস গ্রন্থে আমরা হ্যানিম্যান প্রুভিংকৃত ১০৯টি ওষুধের বিবরণ পাই। এছাড়াও অন্যান্য মেটেরিয়া মেডিকায় আরও ২১টি ওষুধের প্রুভার হিসাবে হ্যানিম্যানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হ্যানিম্যান প্রুভিংকৃত মোট ওষুধ সংখ্যা দাড়ায় ১৩০টি। যা ইতিমধ্যে ইন্টারনেট ও একটি স্মরণিকায় আমি প্রকাশ করেছি। হ্যানিম্যানের প্রদর্শিত নিয়মে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হোমিওপ্যাথিক ড্রাগ প্রুভিং সোসাইটি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রাগ প্রুভিং এর মাধ্যমে বর্তমানে হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকার ওষুধ সংখ্যা প্রায় চার হাজারের উপরে। হ্যানিম্যান ছিলেন সুদুর প্রসারী চিন্তার অধিকারী, তিনি উপলদ্ধি করেন মেটেরিয়া মেডিকার বিশাল লক্ষণাবলী স্মরণে রেখে চিকিৎসা করা অনেক কষ্টকর, মেটেরিয়া মেডিকা খুঁজে সদৃশ ওষুধ বের করতেও অনেক সময় লাগছে । হ্যানিম্যান নিজে প্রুভিং এর সাথে জড়িত ছিলেন, নিজের প্রুভিং করা প্রতিটি ওষুধের লক্ষণাবলী ছিল তাঁর নখদর্পণে, তারপর যখন ওষুধ ও লক্ষণ সংখ্যা অনেক হবে তখন চিকিৎসকরা কি পারবে সদৃশ ওষুধ নির্বাচন করতে ? সদৃশ সঠিক ওষুধ নির্বাচন করতে না পারলে চিকিৎসা ব্যর্থতায় পরিণত হবে, শিশু হোমিওপ্যাথির অকাল মৃত্যু হবে, হোমিওপ্যাথি কী হারিয়ে যাবে পৃথিবীর বুক থেকে? না না তা হতেই পারে না। হ্যানিম্যান এই সমস্যার সমাধানে গভীর চিন্তায় নিমগ্ন হলেন, গবেষণা করলেন এবং অবশেষে এই সমস্যার সমাধান করলেন ও এর প্রভুত উন্নয়নও করলেন। সমাধানটি হলো- প্রয়োজনের সময় যাতে নির্দিষ্ট লক্ষণের ওষুধ কি কি হতে পারে তা সহজে খুঁজে পাওয়ার সুবিধার জন্য তিনি লক্ষণাবলীর একটি সূচীপত্র প্রস্তুত করেন এবং পরবর্তীতে এর নামকরণ করলেন রেপার্টরিয়াম। হ্যানিম্যানের রচিত প্রথম রেপার্টরীর নাম ফ্রাগমেন্টা ডি ভেরিবাস (১৮০৫ সাল), দ্বিতীয় রেপার্টরীর নাম রেপার্টরীয়াম বা Symptomdictionaries, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪২৩৯ (১৮১৭ সাল)। দ্বিতীয় রেপার্টরীটি হাতে লেখা, ছাপা হয়ে আজও প্রকাশিত হয়নি, পান্ডুলিপিটি সংরক্ষিত আছে জার্মানির স্টুটগার্ট হাসপাতালের সোসিওহিস্ট্রিক্যাল মিউজিয়ামের সংগ্রহশালায়। হ্যানিম্যান তার শিষ্য ডাঃ জার, ডাঃ বোনিংহাউসেন, ডাঃ রুকার্ট, ডাঃ গ্রস প্রমুখকে রেপার্টরী রচনায় উৎসাহিত করেন এবং রেপার্টরী রচনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন, এমনকি শিষ্যদের রচিত রেপার্টরী গ্রন্থের বহু স্থানে সংশোধন ও সংযোজন করেন। তিনি অর্গানন অব মেডিসিন গ্রন্থের ১৫৩ নং অনুচ্ছেদের ১০৯ নং পাদটীকায় বোনিংহাউসেন রচিত রেপার্টরীর (১৮৩২ সালে প্রকাশিত) অত্যন্ত প্রশংসা করে বলেন- ডাঃ বোনিংহাউসেন এই রেপার্টরী প্রকাশ করে হোমিওপ্যাথির মহোপকার সাধন করেছেন। হ্যানিম্যানের এ সকল সূদুর প্রসারী চিন্তাধারা ও কর্মকান্ডের জন্যই হ্যানিম্যানকে হোমিওপ্যাথি রেপার্টরীর জনক বলা হয়ে থাকে। হ্যানিম্যানের সময় ওষুধ সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩০টি (মতান্তরে ৯০টি, ৯৯টি, ১০১টি), লক্ষণ সংখ্যাও ছিল কম, তার পরেও তিনি লক্ষণের সূচীপত্র বা রেপার্টরীর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করেছিলেন। হ্যানিম্যানকে অনুসরণ করে চিকিৎসাকর্মকে সহজ করার জন্য খ্যাতিমান চিকিৎসকগণ পরবর্তী সময়ে অনেকেই রেপার্টরী রচনা করেন। হ্যানিম্যানের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রকাশিত রেপার্টরীর সংখ্যা প্রায় ৩৫০, যার একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা আমার রচিত “রেপার্টরী শিক্ষা ও কম্পিউটারাইজড হোমিওপ্যাথি” গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। তবে মেটেরিয়া মেডিকার সূচীপত্র হিসাবে রেপার্টরী রচনা করে (প্রথম প্রকাশ ১৮৯৭ সাল) বিশ্বব্যাপি খ্যাতি অর্জন করেন আমিরিকায় জম্মগ্রহণকারী ও বিগত শতাব্দির সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক ডাঃ জেমস টাইলার কেন্ট, যাতে কমবেশি ৭৫,০০০ রোগলক্ষণ ও ৬৭২টি ওষুধের বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই কেন্ট রেপার্টরীর তথ্যকে ভিত্তি করে সময়ের ও যুগের চাহিদা মেটানোর জন্য সাম্প্রতিক সময়ে রচিত হয়েছে বেশ কয়েকটি আধুনিক রেপার্টরী –

(১) বার্থেল ও ক্লুন্কার রচিত সিন্থেসিস রেপার্টরী (১ম সংস্করণ প্রকাশ ১৯৭৪ সাল), যার সকল তথ্য পরবর্তীতে সিন্থেসিস রেপার্টরীতে অন্তর্ভূক্ত এরা হয়েছে।
(২) রবিন মারফি রচিত হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল রেপার্টরী (১ম সংস্করণ ১৯৯৩ সাল, ২য় সংস্করণ ১৯৯৮, ৩য় সংস্করণ ২০১০)।
(৩) রজার ভ্যন জ্যান্ডভর্ট রচিত কমপ্লিট রেপার্টরী (১ম সংস্করণ ১৯৯৬, ২য় সংস্করণ ১৯৯৮) ।
(৪) রজার ভ্যন জ্যান্ডভর্ট রচিত ইউনিভার্সাল রেপার্টরী (১ম সংস্করণ ২০০৪) ।
(৫) ফ্রেডরিক স্রোয়েন্স সম্পাদিত সিন্থেসিস রেপার্টরীয়াম (১ম সংস্করণ ১৯৮৭, ৯ম সংস্করণ ২০০৭, ১০ম সংস্করণ ২০১০)।

আধুনিক তথ্য সংযোজন করে ও কেন্ট রেপার্টরী গ্রন্থকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে এবং কেন্ট রেপার্টরীতে কমপক্ষে ৫০,০০০ স্থানে তথ্যের সংশোধন করে রচিত “সিন্থেসিস রেপার্টরিয়াম-১০” বিশ্বের সেরা ও সর্ববৃহৎ রেপার্টরীর গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সিন্থেসিস রেপার্টরীতে হ্যানিম্যান থেকে শুরু হয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রকাশিত সকল মেটেরিয়া মেডিকার ও সকল রেপার্টরীর তথ্য সংযোজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের ৩৮০০ চিকিৎসক এই রেপার্টরীতে তথ্য সংযোজন করে যাচ্ছেন এবং এই তথ্য সংযোজন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সিন্থেসিস রেপার্টরীর ১০ম সংস্করণে প্রায় ১,৫০,০০০ লক্ষণ বা রুব্রিক এর মাধ্যমে কমবেশি ৪,০০০ ওষুধের বিশ্লেষণ অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দু হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা। মেটেরিয়া মেডিকার লক্ষণের সাথে রোগীর লক্ষণের সাদৃশ্যতা বিবেচনা করেই আমাদেরকে রোগীর জন্য ওষুধ নির্বাচন করতে হয়। কিন্তু বর্তমান মেটেরিয়া মেডিকার প্রায় ৪০০০ ওষুধের সকল লক্ষণ স্মরণে রেখে চিকিৎসা করা কী কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব? উত্তর হচ্ছে সম্ভব নয়। তাহলে আমরা সদৃশ ওষুধ কিভাবে নির্বাচন করব? উত্তর হচ্ছে- রেপার্টরীর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে। কেননা রেপার্টরী হচ্ছে মেটেরিয়া মেডিকার সূচীপত্র। একটি বৃহৎ গ্রন্থের সূচীপত্র থেকে যেমন জানা যায় এই গ্রন্থের কোথায় কোন বিষয়ের বর্ণনা আছে, তেমনি রেপার্টরী গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে কোন লক্ষণের কি কি ওষুধ আমাদের মেটেরিয়া মেডিকায় লিপিবদ্ধ আছে।

হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরী হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রের সবচেয়ে কৌশলপূর্ণ গ্রন্থ। রেপার্টরী সম্পূর্ণরূপে মেটেরিয়া মেডিকার তথ্যের উপর নির্ভরশীল, মেটেরিয়া মেডিকার তথ্য তথা লক্ষণাবলীকে ধারণ করেই রেপার্টরী পরিপুষ্ট হয়েছে, সেজন্য রেপার্টরী কখনোই মেটেরিয়া মেডিকার বিকল্প নয়, রেপার্টরী কখনোই মেটেরিয়া মেডিকার স্থলাভিসিক্ত হতে পারে না। মেটেরিয়া মেডিকাকে যদি সমুদ্র জ্ঞান করা হয় তাহলে রেপার্টরী হচ্ছে সেই সমুদ্র পাড়ি দেয়ার কৌশলপূর্ণ জাহাজ। ওষুধ নির্বাচনের রায় প্রদানে রেপার্টরী হচ্ছে হাইকোর্ট, আর মেটেরিয়া মেডিকা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকতেও পারে আবার বাতিলও হতে পারে।

মেটেরিয়া মেডিকায় একটি ওষুধের নামের বিপরীতে সেই ওষুধের লক্ষণাবলীর বর্ণনা দেয়া থাকে, অন্যদিকে রেপার্টরীতে কোন একটি লক্ষণে কি কি ওষুধ হতে পারে তার তালিকা দেয়া থাকে। মেটেরিয়া মেডিকার বিশালত্ব এত ব্যাপক যে কোন মানুষের পক্ষে সকল ওষুধের নাম ও লক্ষণাবলীকে সর্বদা স্মরণে রেখে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়, অসম্ভবও বটে। কিন্তু পদ্ধতিগত সুবিধার কারণে বা বিশেষ কলা-কৌশলের মাধ্যমে রেপার্টরীর লক্ষণাবলী সাজানো হয়েছে বিধায় রেপার্টরী আয়ত্ব করা মেটেরিয়া মেডিকার তুলনায় সহজসাধ্য, কোন ভাবেই অসম্ভব নয়।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ওষুধে কি কি লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে বা আরোগ্য করতে পারে তা নির্দেশ করাই মেটেরিয়া মেডিকার প্রধান কাজ। অন্যদিকে কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষণে বা রুব্রিকে কি কি ওষুধ রোগারোগ্যে প্রয়োগ করা যেতে পারে সেটি নির্দেশ করাই রেপার্টরীর প্রধান কাজ। কোন একটি নির্দিষ্ট লক্ষণ মেটেরিয়া মেডিকার কোন কোন ওষুধে আছে তা জানা না থাকলে হঠাৎ করে বের করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অন্যদিকে রেপার্টরী মেটেরিয়া মেডিকার লক্ষণাবলীর সূচীপত্র বিধায় যে কোন লক্ষণের ওষুধ কি কি হতে পারে তা বের করা তুলনমূলকভাবে অনেক সহজসাধ্য। এ প্রসঙ্গে রেপার্টরীর সাথে মেটেরিয়া মেডিকার সম্পর্ক কিরূপ তা অনুধাবনের জন্য বিখ্যাত কয়েকটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিচ্ছি ।
1. A repertory is an index of symptoms, arranged systematically.
—-Dr. Boenninghausen. (1832).
2. It is a book of index of medicines under symptoms, it is well related with Materia Medica, Therapeutics and Organon. Hence Materia Medica and Therapeutics are said to be the dictionary and Organon as grammar.
—- Dr.C.M. Bogar (1938).
3. A Repertory is an index of symptoms and there corresponding homeopathic remedies.
—-Dr. Harvey Farrington, M. D.
4. It is like a dictionary, a book of nature relating the meaning of myriads of pathological phenomena. It is a grand key for successful exploration of Homoeopathic remedies.
—- Dr.I.G. Bidwel (1915).
5. It is a sort of dictionary or an index. Hence basically the repertory is an index to our Homoeopathic Meteria Medica.
—- Dr. Jugol Kishore (1967).
6. The Repertory is an index, a catalogue of Meteria Medica neatly arranged in a practical form as also indicating the relative gradation of drugs and it greatly facilitates quick selection of indicated remedy.
—- Dr. D. Tarafder (1986).

তবে আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে একটি ভাল মেটেরিয়া মেডিকা স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবী করেতে পারে, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মূলকেন্দ্রবিন্দু মেটেরিয়া মেডিকা, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শাস্ত্রের সর্বোচ্চ আদালত মেটেরিয়া মেডিকা। মেটেরিয়া মেডিকার সমকক্ষ বা বিকল্প হওয়ার ক্ষমতা রেপার্টরীর নেই। কেননা কোন রেপার্টরীই স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবী করতে পারে না। রেপার্টরী মেটেরিয়া মেডিকার বিকল্প নয় বরং জটিলতাময় রোগীচিত্রের সাদৃশ্যতা নিরুপণের একটি হাতিয়ার বা কৌশলপূর্ণ গ্রন্থ বিশেষ। সুবিচার ও লক্ষণের নির্ভুল মূল্যায়নের মাধ্যমে সর্বোত্তম ব্যবস্থাপত্র প্রণয়নে রেপার্টরীর ব্যবহার একটি উৎকৃষ্ট আর্ট বা সর্বোত্তম কৌশল হলেও রেপার্টরী সম্পূর্ণরূপে মেটেরিয়া মেডিকার উপর নির্ভরশীল।

হিমালয়ের মত সুউচ্চ পর্বতকে (৮৮৪৮ মিটার) মানুষ কৌশলের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে জয় করতে সক্ষম হয়েছে। পৃথিবী হতে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮৪,৪০৩ কি.মি. বা ২,৩৮,৮৫৭ মাইল। রকেট নামক কৌশলপূর্ণ খেয়াযান তৈরী করে মানুষ চাঁদের বুকে পা ফেলতে সক্ষম হয়েছে। জাহাজ তৈরী করে মহাসমুদ্র অতিক্রম করেছে। সর্ব ক্ষেত্রেই মানুষ কোন কিছুকে আয়ত্বের জন্য কোন না কোন কৌশল অবলম্বন করেছে। অনুরূপভাবে সমুদ্রের মত বিশাল মেটেরিয়া মেডিকাকে আয়ত্ব করার জন্য যে কৌশল মানুষ সৃষ্টি করেছে তার নাম হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরী । হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরীকে আয়ত্ব করতে পারলে হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকাকে আরও সহজে আয়ত্ব করা যায়। ফলে রোগীর জন্য ওষুধ নির্বাচনের কাজটি আরও দক্ষতার সাথে সম্পাদন করা যায়।

একোনাইট ন্যাপ ওষুধটি পড়েননি এমন চিকিৎসক খুঁজে পাওয়া যাবে না। একোনাইট ন্যাপের সুপার গ্রেড লক্ষণ কোন কোনটি কেউ কি বলতে পারবেন। সিন্থেসিস রেপার্টরীতে এগুলো হচ্ছে –

MIND – AILMENTS FROM – fright – accident; from sight of an
MIND – ANGUISH
MIND – DEATH – presentiment of – predicts the time
MIND – FEAR – death, of
MIND – FEAR – death, of – loquacity; with
MIND – FEAR – death, of – prolapse of uterus; with
MIND – RESTLESSNESS – anxious
MIND – SENSITIVE – pain, to
MIND – SHRIEKING – pain, with the

একোনাইট ন্যাপের ১ম শ্রেণীর একক লক্ষণ (যে লক্ষণটি অন্য কোন ওষুধে নেই) কোন কোনটি কেউ কি বলতে পারবেন। সিন্থেসিস রেপার্টরীতে এগুলো হচ্ছে –

MIND – ANGUISH – peritonitis; during
MIND – DELUSIONS – die – about to die; one was – delivery; during
MIND – FEAR – death, of – hemoptysis; during
MIND – FEAR – death, of – pregnancy, during
MIND – FEAR – subways; of
EYE – COLD – air – agg. – Lids
TEETH – PAIN – bed – going to bed – after – tearing pain
STOMACH – INFLAMMATION – cold – anything cold; from – agg.
ABDOMEN – PAIN – extending to – Chest – stool agg.; during
BLADDER – URINATION – involuntary – thirst and fear, with
BLADDER – URINATION – urging to urinate – anxious – urinate, on beginning to
CHEST – PAIN – chill – after – cutting pain
CHEST – WATER, sensation of – boiling water was poured into chest; as if
FEVER – SIDE – cheek red and hot, the other pale and cold; one

এভাবে রেপার্টরী দ্বারা মেটেরিয়া মেডিকার প্রত্যেকটি ওষুধের সুপার গ্রেড, ১ম শ্রেণী, ২য় শ্রেণী, ৩য় শ্রেণীর লক্ষণ এবং প্রতিটি শ্রেণীর একক ওষুধ খুঁজে বের করা যায়। অর্থাৎ মেটেরিয়া মেডিকার ওষুধগুলোকে আরও গভীর ভাবে জানা যায়। যা কেবল মেটেরিয়া মেডিকা পাঠ করে জানা যায় না। সুতরাং স্পষ্টতই প্রতিয়মান হয় যে রেপার্টরীর ব্যবহার মেটেরিয়া মেডিকার জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করে।

তাই আসুন সকল দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকাকে আরও গভীর ভাবে আয়ত্বের জন্য হোমিওপ্যাথিক রেপার্টরীকে আয়ত্তের জন্য সংকল্প গ্রহণ করি।

( ১ম পর্ব)