ভোলায় কালবৈশাখীর তান্ডবে নিহত-১, আহত-২০

ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলার লালমোহন-মনপুরায় কালবৈশাখীর তান্ডবে সাড়ে ৪ শতাধিক ঘর-বাড়ী, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ১ জন নিহত এবং ৬ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে লালমোহন ও মনপুরায় এ ঘটনা ঘটে।
লালমোহন প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে কালবৈশাখীর ঝড়ে একজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে ৩শ’ পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান রুমি। নির্বাহী অফিসার জানান, নিহত ব্যক্তি শুক্কুর আলী (৫০) মাগুরা জেলার বাসিন্দা। যশোর থেকে ট্রলার বোঝাই করে পাটখড়ি নিয়ে তেতুঁলিয়া নদী দিয়ে হয়ত কোথাও যাচ্ছিলেন। এসময় উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে ঝড়ের কবলে পরে শুক্কুর আলী ট্রলার থেকে নদীতে পরে মারা যান। লালমোহন থানার এসআই সাইদুর রহমান জানান, নিহত শুক্কুর লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে।
এছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ে লালমোহন উপজেলার কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের টিনের চাল উড়ে যায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করতে গিয়ে ৬জন শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। আহতরা হলেন ৬ষ্ঠ শ্রেণীর মিথিলা মজুমদার, ৮ম শ্রেণীর যুগল চন্দ্র দে, ৯ম শ্রেণীর ইমরান, মাহাদী, ১০ম শ্রেণীর আবদুল্লাহ, নাইমুন। আহতদের লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে যুগল চন্দ্র’র আবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান রুমি, পৌর আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাদল। কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আফসার উদ্দিন জানান, দুপুরে স্কুলের বিরতির চলাকালীন সময়ে কাল বৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে স্কুলের ২০১৫ সালে নির্মিত আধাপাকা ঘরটি ভেঙে পরে। এতে করে ক্লাস রুমে থাকা ৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার অপুর্ব দাস জানান, লালমোহনে কালবৈশাখীর ঝড়ে প্রায় ১৫০টি টিনের ঘর সম্পূর্ন এবং ২৫০ টি ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। অপরদিকে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
অপরদিকে মনপুরায় হঠাৎ দুই ঘন্টাব্যাপি কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসাসহ ৪টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ী ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ে সিমেন্ট বোঝাই আল্লাহর দান কার্গো কাত হয়ে পড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার সিমেন্টের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়। এদিকে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন চরনিজাম, কলাতলীর চর ও কাজীর চরে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন। তবে এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রাস্তায় রাস্তায় গাছ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টার সময় শুরু হওয়া দুই ঘন্টাব্যাপি কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ীসহ মসজিদ-মাদ্রসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসাটির টিনের ভবনটি সম্পূর্নরুপে বিধ্বস্ত হয়। একই ইউনিয়নের উত্তর সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তার উপর জয় দাসের সেলুন দোকানটি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গাছের সাথে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রবিউল, মোশারফ সর্দার, এরশাদ বসতঘর, সাঈদুর রহমান, মোঃ জসিম এর দোকান ঘরেসম্পুর্ন বিধ্বস্ত হয়েছে।
এছাড়া ১নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান ঘাট সংলগ্ন মেঘনায় ঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে মোঃ আলী নৌকা। আংশিক ক্ষতি হয়েছে নুরুদ্দিন, ছলেমান ও মনির মাঝির মাছ ধরা ট্রলারগুলো। এদিকে হাজির হাট ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে দাসের হাট এলাকায় শ্রীকৃঞ্চ দাস, সাধন বালা দাস, সাইনুর বেগম ও অলিউল্যার বসত ঘর, ৮নং ওয়ার্ডের মোঃ আবু মিয়ার বসত ঘর ও ৬নং ওয়ার্ডের শ্রীকৃঞ্চ দাসের বসত ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া উত্তর চরযতিন জামে মসজিদের আংশিক টিনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে।
এদিকে মনপুরা ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন কলাতরীর চর ও চরনিজামে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আমানত উল্লা আলমগীর। এছাড়াও দাসেরহাট এলাকায় নোঙ্গর করা অবস্থায় একটি সিমেন্ট বোঝাই আল্লাহর দান কার্গো বাতাসে কাত হয়ে পড়ে সিমেন্টের ক্ষতি হয়। এ ব্যাপারে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হাসেম সিরাজ কাজী বলেন, হঠাৎ ঝড়ে মানুষের বসত ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয় খোঁজ খবর নিচ্ছি।
৪নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজল জানান, ঝড়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি ইউপি সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয় খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য বলেছি। হাজির হাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দ্বিপক জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয় খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল আজিজ ভূঁঞা বলেন, ঝড়ে উপজেলায় মাদ্রাসাসহ বসত ঘরবাড়ীর ক্ষতি হওয়ার খবর পেয়েছি। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করব।

আরও পড়ুন

Friday, September 24, 2021

সর্বশেষ