নির্যাতনে নাসিমার বাম কান ফেটে যায় ! ভোলায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতন l

ভোলা প্রতিনিধি ॥ আমরা সব সময় শুনে এসেছি, শিক্ষক তার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মারবে; এটা যেমন স্বাভাবিক, কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীর বাবা-মাকে মারবে এটা অস্বাভাবিক। গরুর মাংস খাওয়ার মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলার “পশ্চিম ইলিশার মালের হাট মাসুদুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”র প্রধান শিক্ষক টিএম সিরাজুল আলম ও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক জাহানার বেগম এবং তাদের কলেজ পড়–য়া ছেলে রাসেল এই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাম্মৎ মালা বেগম ও তার মা মোসাম্মৎ নাসিমা আক্তারকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন। শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হন নাই, নানানভাবে ভয়-ভীতি এবং হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ছেলে রাসেল ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে মালাদের পুরো পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। উপায়ন্তর না পেয়ে মালার মা নাসিমা আক্তার গত ২৫/০৬/১৮ ইং তারিখ জেলা প্রশাসক ভোলা বরাবর সু-বিচার চেয়ে একখানা আবেদন করেন। ওই দিনই জেলা প্রশাসক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেএম শাখা) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কার্যালয়কে প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং-৮৪৯।
উক্ত শাখা থেকে ভোলার সদর নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনের কাছে প্রেরণ করিলে নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (প্রাথমিক) আবু তাহেরকে নির্দেশপূর্বক অনুরোধ করেন। নির্দেশ পেয়ে গত ১৪/০৭/১৮ইং তারিখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন শিক্ষা অফিসার আবু তাহের। তার তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিতের অপেক্ষায়। এদিকে মালার গোটা পরিবার নিরাপত্তাহিনতায় ভূগছেন। মালার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভয়ে সে কারো সাথে কথা বলছেন না। নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।
মালার মা নাসিমা আক্তারের অবস্থাও গুরুতর। তার বাম কানের ভিতরে ফেটে গেছে। কানে শুনছেন না। ঘারে ও পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা। মালার বাবা আবুল কাশেম হাওলদার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছেন, কাউকে কিছু বলছেন না। তিনি সংবাদকর্মীদেরকে কাছে পেয়ে সাহস করে বলেন, এমনিতেই হুমকির মধ্যে আছি। আবার কিছু বললে থাকার জায়গাটুকু দখল করে নিবে। নানান উছিলা খুজছে বাড়ী থেকে উৎখেত করার জন। এবার হয়তো ষোলকলা পূর্ণ হবে।
এ বিষয়ে টিএম সিরাজুল আলমের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমার কথায় এলাকা এবং স্কুল চলে। ওর মত পিচ্চি মেয়েকে আমার মারা লাগে ? ইশারাদিলেই তো হয়ে যায়। আমি, আমার স্ত্রী বা আমার ছেলের কারোই কোন দোষ নেই। ওর ঘর আমার ঘরের সামনে। ওদেরকে আমি আশ্রয় দিয়ে রাখছি। কেন মারতে বা হুমকি দিতে যাব। তবে আমার ছেলেটা নেশাগ্রস্ত থাকে তো, রাগের বশত কিছু একটা বলতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মালার মা নাজিম বাঘার ঘরে ফ্রিজে মাংস রাখেন। সেই ফ্রিজে শিক্ষিকা জাহানারা বেগমও রাখেন। জাহানারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ছোট প্যাকেটটি রেখে নাসিমা আক্তারের বড় প্যাকেটটি নিয়ে যান। এটা নিয়ে উভয়ের মধ্যে হালকা আলোচনা ও ভুল বুঝাবোঝি হয়। কিন্তু জাহানারা বেগম রান্না করতে যান, তখন দেখেন মাংসের গায়ে ‘আল্লাহ’ লেখা। ভয়ে মাংস না খেয়ে মাটিতে পুতে রাখেন। কিন্তু ঘটনাটা কৌতহলভাবে স্কুলের শিক্ষক রুমে আলোচনা হলে মালাদের মত অনেক বাচ্চাদের কানে আসে। তখন মালা দুষ্টামি করে তার সহপাঠীদের বলে আপা জোর করে আমাদের মাংস নিয়ে গেছে, তাই আল্লাহ খেতে দেয়নি। এই কথা জাহানারা বেগম শুনে উপস্থিত সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই মালার চুল ধরে টেনে-হিচরে প্রধান শিক্ষক টিএম সিরাজুল আলমের রুমে নিয়ে যান। প্রধান শিক্ষক স্কুল ছুটি দিয়ে মালাকে ইচ্ছামত মারেন ও শাসান এবং বলেন, ঘরে গিয়ে যদি বলিস; তাহলে তোর বাবা-মাকে তো মারবো-ই, বাড়ী থেকে উৎখেত করে দেবো।
ঘরে যাওয়ার পর মালা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ২দিন বিছানায় পড়ে থাকার পর, মালার মা তাকে জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দিতে চায়নি। কিন্তু মায়ের চাপে মালা তার মাকে ঘটনাটি জানান। নাসিমা আক্তার মালাকে এবং বাড়ীর আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষিকা জাহানারা বেগমকে জিজ্ঞেস করলে সকলের উপস্থিতিতে জাহানারা বেগম ও তার ছেলে রাসেল নাসিমা আক্তারকে উপর্যপুরি থাপ্পর-চোপার, কিল-ঘুসি দিতে থাকে। এতে নাসিমা আক্তারের বাম কানের পর্দা ফেটে যায়। সে এখন কানে শুনতে পায় না। কোমরে এবং পিঠে প্রচন্ড আঘাত পায়। এরপর থেকেই মাদকাসক্ত রাসেল মালার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, এই মারামারি মুল উদ্দেশ্য না। উদ্দেশ্য হলো মালাদের ঘরটাকে দখল করা। সিরাজ স্যার এই ঘরটা দখল করতে পারলে তার ঘরটাকে বড় করে ছাদ দিয়ে করবেন। এই স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখছেন। কিন্তু মালার বাবা আবুল কাশেম হাওলাদার তাতে রাজি হননি। তাই মালার পরিবারকে বিভিন্নভাবে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন সিরাজুল আলমের পরিবার। এছাড়াও সিরাজের বিরুদ্ধে জমি দখল এবং সুদের ব্যবসাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বলেন, সুদের উপর টাকা লগ্নি করেছেন স্থানীয় শহিদুলের কাছে। গরীব শহিদুল টাকা দিতে না পারায় সিরাজুল আলম স্যার জোরপূর্বক তার জমিটা দখল করে নেয়। মালের হাটে এমন হাজারো অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল আলমের বিরুদ্ধে। সাহস করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না, কারণ তার আছে রাজনৈতিক শক্তি।
নির্যাতনে নাসিমার বাম কান ফেটে যায় !
ভোলায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতন
ভোলা প্রতিনিধি ॥ আমরা সব সময় শুনে এসেছি, শিক্ষক তার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মারবে; এটা যেমন স্বাভাবিক, কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীর বাবা-মাকে মারবে এটা অস্বাভাবিক। গরুর মাংস খাওয়ার মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলার “পশ্চিম ইলিশার মালের হাট মাসুদুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”র প্রধান শিক্ষক টিএম সিরাজুল আলম ও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক জাহানার বেগম এবং তাদের কলেজ পড়–য়া ছেলে রাসেল এই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাম্মৎ মালা বেগম ও তার মা মোসাম্মৎ নাসিমা আক্তারকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন। শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হন নাই, নানানভাবে ভয়-ভীতি এবং হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ছেলে রাসেল ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে মালাদের পুরো পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। উপায়ন্তর না পেয়ে মালার মা নাসিমা আক্তার গত ২৫/০৬/১৮ ইং তারিখ জেলা প্রশাসক ভোলা বরাবর সু-বিচার চেয়ে একখানা আবেদন করেন। ওই দিনই জেলা প্রশাসক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেএম শাখা) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কার্যালয়কে প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং-৮৪৯।
উক্ত শাখা থেকে ভোলার সদর নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনের কাছে প্রেরণ করিলে নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (প্রাথমিক) আবু তাহেরকে নির্দেশপূর্বক অনুরোধ করেন। নির্দেশ পেয়ে গত ১৪/০৭/১৮ইং তারিখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন শিক্ষা অফিসার আবু তাহের। তার তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিতের অপেক্ষায়। এদিকে মালার গোটা পরিবার নিরাপত্তাহিনতায় ভূগছেন। মালার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভয়ে সে কারো সাথে কথা বলছেন না। নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।
মালার মা নাসিমা আক্তারের অবস্থাও গুরুতর। তার বাম কানের ভিতরে ফেটে গেছে। কানে শুনছেন না। ঘারে ও পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা। মালার বাবা আবুল কাশেম হাওলদার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছেন, কাউকে কিছু বলছেন না। তিনি সংবাদকর্মীদেরকে কাছে পেয়ে সাহস করে বলেন, এমনিতেই হুমকির মধ্যে আছি। আবার কিছু বললে থাকার জায়গাটুকু দখল করে নিবে। নানান উছিলা খুজছে বাড়ী থেকে উৎখেত করার জন। এবার হয়তো ষোলকলা পূর্ণ হবে।
এ বিষয়ে টিএম সিরাজুল আলমের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমার কথায় এলাকা এবং স্কুল চলে। ওর মত পিচ্চি মেয়েকে আমার মারা লাগে ? ইশারাদিলেই তো হয়ে যায়। আমি, আমার স্ত্রী বা আমার ছেলের কারোই কোন দোষ নেই। ওর ঘর আমার ঘরের সামনে। ওদেরকে আমি আশ্রয় দিয়ে রাখছি। কেন মারতে বা হুমকি দিতে যাব। তবে আমার ছেলেটা নেশাগ্রস্ত থাকে তো, রাগের বশত কিছু একটা বলতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মালার মা নাজিম বাঘার ঘরে ফ্রিজে মাংস রাখেন। সেই ফ্রিজে শিক্ষিকা জাহানারা বেগমও রাখেন। জাহানারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ছোট প্যাকেটটি রেখে নাসিমা আক্তারের বড় প্যাকেটটি নিয়ে যান। এটা নিয়ে উভয়ের মধ্যে হালকা আলোচনা ও ভুল বুঝাবোঝি হয়। কিন্তু জাহানারা বেগম রান্না করতে যান, তখন দেখেন মাংসের গায়ে ‘আল্লাহ’ লেখা। ভয়ে মাংস না খেয়ে মাটিতে পুতে রাখেন। কিন্তু ঘটনাটা কৌতহলভাবে স্কুলের শিক্ষক রুমে আলোচনা হলে মালাদের মত অনেক বাচ্চাদের কানে আসে। তখন মালা দুষ্টামি করে তার সহপাঠীদের বলে আপা জোর করে আমাদের মাংস নিয়ে গেছে, তাই আল্লাহ খেতে দেয়নি। এই কথা জাহানারা বেগম শুনে উপস্থিত সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই মালার চুল ধরে টেনে-হিচরে প্রধান শিক্ষক টিএম সিরাজুল আলমের রুমে নিয়ে যান। প্রধান শিক্ষক স্কুল ছুটি দিয়ে মালাকে ইচ্ছামত মারেন ও শাসান এবং বলেন, ঘরে গিয়ে যদি বলিস; তাহলে তোর বাবা-মাকে তো মারবো-ই, বাড়ী থেকে উৎখেত করে দেবো।
ঘরে যাওয়ার পর মালা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ২দিন বিছানায় পড়ে থাকার পর, মালার মা তাকে জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দিতে চায়নি। কিন্তু মায়ের চাপে মালা তার মাকে ঘটনাটি জানান। নাসিমা আক্তার মালাকে এবং বাড়ীর আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষিকা জাহানারা বেগমকে জিজ্ঞেস করলে সকলের উপস্থিতিতে জাহানারা বেগম ও তার ছেলে রাসেল নাসিমা আক্তারকে উপর্যপুরি থাপ্পর-চোপার, কিল-ঘুসি দিতে থাকে। এতে নাসিমা আক্তারের বাম কানের পর্দা ফেটে যায়। সে এখন কানে শুনতে পায় না। কোমরে এবং পিঠে প্রচন্ড আঘাত পায়। এরপর থেকেই মাদকাসক্ত রাসেল মালার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, এই মারামারি মুল উদ্দেশ্য না। উদ্দেশ্য হলো মালাদের ঘরটাকে দখল করা। সিরাজ স্যার এই ঘরটা দখল করতে পারলে তার ঘরটাকে বড় করে ছাদ দিয়ে করবেন। এই স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখছেন। কিন্তু মালার বাবা আবুল কাশেম হাওলাদার তাতে রাজি হননি। তাই মালার পরিবারকে বিভিন্নভাবে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন সিরাজুল আলমের পরিবার। এছাড়াও সিরাজের বিরুদ্ধে জমি দখল এবং সুদের ব্যবসাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বলেন, সুদের উপর টাকা লগ্নি করেছেন স্থানীয় শহিদুলের কাছে। গরীব শহিদুল টাকা দিতে না পারায় সিরাজুল আলম স্যার জোরপূর্বক তার জমিটা দখল করে নেয়। মালের হাটে এমন হাজারো অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল আলমের বিরুদ্ধে। সাহস করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না, কারণ তার আছে রাজনৈতিক শক্তি।
নির্যাতনে নাসিমার বাম কান ফেটে যায় !
ভোলায় শিক্ষক দ্বারা ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতন
ভোলা প্রতিনিধি ॥ আমরা সব সময় শুনে এসেছি, শিক্ষক তার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মারবে; এটা যেমন স্বাভাবিক, কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীর বাবা-মাকে মারবে এটা অস্বাভাবিক। গরুর মাংস খাওয়ার মত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলার “পশ্চিম ইলিশার মালের হাট মাসুদুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”র প্রধান শিক্ষক টিএম সিরাজুল আলম ও তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক জাহানার বেগম এবং তাদের কলেজ পড়–য়া ছেলে রাসেল এই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাম্মৎ মালা বেগম ও তার মা মোসাম্মৎ নাসিমা আক্তারকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন। শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হন নাই, নানানভাবে ভয়-ভীতি এবং হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তারা। ছেলে রাসেল ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে মালাদের পুরো পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। উপায়ন্তর না পেয়ে মালার মা নাসিমা আক্তার গত ২৫/০৬/১৮ ইং তারিখ জেলা প্রশাসক ভোলা বরাবর সু-বিচার চেয়ে একখানা আবেদন করেন। ওই দিনই জেলা প্রশাসক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য খান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেএম শাখা) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কার্যালয়কে প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং-৮৪৯।
উক্ত শাখা থেকে ভোলার সদর নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিনের কাছে প্রেরণ করিলে নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (প্রাথমিক) আবু তাহেরকে নির্দেশপূর্বক অনুরোধ করেন। নির্দেশ পেয়ে গত ১৪/০৭/১৮ইং তারিখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত করেন শিক্ষা অফিসার আবু তাহের। তার তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিতের অপেক্ষায়। এদিকে মালার গোটা পরিবার নিরাপত্তাহিনতায় ভূগছেন। মালার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভয়ে সে কারো সাথে কথা বলছেন না। নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।
মালার মা নাসিমা আক্তারের অবস্থাও গুরুতর। তার বাম কানের ভিতরে ফেটে গেছে। কানে শুনছেন না। ঘারে ও পিঠে প্রচন্ড ব্যাথা। মালার বাবা আবুল কাশেম হাওলদার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছেন, কাউকে কিছু বলছেন না। তিনি সংবাদকর্মীদেরকে কাছে পেয়ে সাহস করে বলেন, এমনিতেই হুমকির মধ্যে আছি। আবার কিছু বললে থাকার জায়গাটুকু দখল করে নিবে। নানান উছিলা খুজছে বাড়ী থেকে উৎখেত করার জন। এবার হয়তো ষোলকলা পূর্ণ হবে।
এ বিষয়ে টিএম সিরাজুল আলমের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, আমি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমার কথায় এলাকা এবং স্কুল চলে। ওর মত পিচ্চি মেয়েকে আমার মারা লাগে ? ইশারাদিলেই তো হয়ে যায়। আমি, আমার স্ত্রী বা আমার ছেলের কারোই কোন দোষ নেই। ওর ঘর আমার ঘরের সামনে। ওদেরকে আমি আশ্রয় দিয়ে রাখছি। কেন মারতে বা হুমকি দিতে যাব। তবে আমার ছেলেটা নেশাগ্রস্ত থাকে তো, রাগের বশত কিছু একটা বলতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মালার মা নাজিম বাঘার ঘরে ফ্রিজে মাংস রাখেন। সেই ফ্রিজে শিক্ষিকা জাহানারা বেগমও রাখেন। জাহানারা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ছোট প্যাকেটটি রেখে নাসিমা আক্তারের বড় প্যাকেটটি নিয়ে যান। এটা নিয়ে উভয়ের মধ্যে হালকা আলোচনা ও ভুল বুঝাবোঝি হয়। কিন্তু জাহানারা বেগম রান্না করতে যান, তখন দেখেন মাংসের গায়ে ‘আল্লাহ’ লেখা। ভয়ে মাংস না খেয়ে মাটিতে পুতে রাখেন। কিন্তু ঘটনাটা কৌতহলভাবে স্কুলের শিক্ষক রুমে আলোচনা হলে মালাদের মত অনেক বাচ্চাদের কানে আসে। তখন মালা দুষ্টামি করে তার সহপাঠীদের বলে আপা জোর করে আমাদের মাংস নিয়ে গেছে, তাই আল্লাহ খেতে দেয়নি। এই কথা জাহানারা বেগম শুনে উপস্থিত সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সামনেই মালার চুল ধরে টেনে-হিচরে প্রধান শিক্ষক টিএম সিরাজুল আলমের রুমে নিয়ে যান। প্রধান শিক্ষক স্কুল ছুটি দিয়ে মালাকে ইচ্ছামত মারেন ও শাসান এবং বলেন, ঘরে গিয়ে যদি বলিস; তাহলে তোর বাবা-মাকে তো মারবো-ই, বাড়ী থেকে উৎখেত করে দেবো।
ঘরে যাওয়ার পর মালা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ২দিন বিছানায় পড়ে থাকার পর, মালার মা তাকে জিজ্ঞাসা করলে কোন উত্তর দিতে চায়নি। কিন্তু মায়ের চাপে মালা তার মাকে ঘটনাটি জানান। নাসিমা আক্তার মালাকে এবং বাড়ীর আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষিকা জাহানারা বেগমকে জিজ্ঞেস করলে সকলের উপস্থিতিতে জাহানারা বেগম ও তার ছেলে রাসেল নাসিমা আক্তারকে উপর্যপুরি থাপ্পর-চোপার, কিল-ঘুসি দিতে থাকে। এতে নাসিমা আক্তারের বাম কানের পর্দা ফেটে যায়। সে এখন কানে শুনতে পায় না। কোমরে এবং পিঠে প্রচন্ড আঘাত পায়। এরপর থেকেই মাদকাসক্ত রাসেল মালার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, এই মারামারি মুল উদ্দেশ্য না। উদ্দেশ্য হলো মালাদের ঘরটাকে দখল করা। সিরাজ স্যার এই ঘরটা দখল করতে পারলে তার ঘরটাকে বড় করে ছাদ দিয়ে করবেন। এই স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন যাবত দেখছেন। কিন্তু মালার বাবা আবুল কাশেম হাওলাদার তাতে রাজি হননি। তাই মালার পরিবারকে বিভিন্নভাবে এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করছেন সিরাজুল আলমের পরিবার। এছাড়াও সিরাজের বিরুদ্ধে জমি দখল এবং সুদের ব্যবসাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বলেন, সুদের উপর টাকা লগ্নি করেছেন স্থানীয় শহিদুলের কাছে। গরীব শহিদুল টাকা দিতে না পারায় সিরাজুল আলম স্যার জোরপূর্বক তার জমিটা দখল করে নেয়। মালের হাটে এমন হাজারো অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল আলমের বিরুদ্ধে। সাহস করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না, কারণ তার আছে রাজনৈতিক শক্তি।

আরও পড়ুন

Friday, September 24, 2021

সর্বশেষ