কমলনগরে বর্ষা-ই আতঙ্ক…

আমজাদ হোসেন আমু, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর): লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে কবলিত হাজার পরিবার। মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে মাইলের পর মাইল বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকে এ জনপদ । বর্ষায় মেঘনার ভাঙন ভিন্ন রুপ ধারণ করে।
বর্ষায় জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় বিস্তীর্ণ এ জনপদ। পরিস্থিতি এমন রুপ ধারন করে, যেন আর রক্ষা নেই। যেদিকে চোখ যায় শুধু পানির আর পানি। পানি স্রোতে  তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ। বাড়ির উঠান মাড়িয়ে ঘরে উঠে জোয়ারের পানি। বর্ষা এলেই মানুষের মনে বেড়ে যায় দুশ্চিন্তা। এ যেন প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা।
তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে কমলনগরে মেঘনার ভাঙনে কবলিত। ভাঙনে হারিয়ে গেছে, রাস্তাঘাট, হাট বাজার, ফসলি জমি, আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদসহ বহু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা। বিলীন হয়ে গেছে বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধ না থাকায় এ জনপদে মানুষের মানুষের দুঃখের আর অন্তঃ থাকে না। তবে বর্ষায় কূল হারা বা ডাকা কাটা পাখির মত ভাসতে থাতে এ জনপদের মানুষ।

আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নদীতে অস্বাভাবিক পানি বেড়ে যায়। এ সময় জোয়ারের পানিতে ভাসতে থাকে উপজেলার প্রায় গ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চল ।

বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চর জগবন্ধ, ফলকন, পাটারিরহাট এলাকার হাজার হাজার পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বাড়ি-ঘরে পানি উঠে বন্দি হয়ে পড়ে তারা। সড়ক ও কাঁচা ঘরবাড়িসহ হাজার হাজার একর জমির ফসল ক্ষতির সম্মুখীন হয় । এছাড়াও হুমকিতে পড়ে গবাদি পশুসহ বিভিন্ন প্রজাতির জীব।

জোয়ারের সময় উপজেলাটির সাহেবেরহাট, কালকিনি ও চর ফলকন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেড়ি বাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি দ্রুত ঢুকে পড়ে আশপাশের এলাকায়। চলাচলের রাস্তা পেরিয়ে পানিতে ডুবে যায় বসত ঘর।

মেঘনার পাড়ে অবস্থিত বাজার ব্যবসায়ীরা জানান , জোয়ারের সময় মাঠঘাট পেরিয়ে বাজারেও পানি উঠে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিপাকে পড়তে হয়।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা এলেই স্থানীয়রা  আতঙ্কে থাকে। বর্ষায় নদী দ্রুত গতিতে ভাঙে। এসময় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি ভাঙে। তাছাড়া জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে ঘরের মালামাল নষ্ট হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হয়। প্রতিবছর বাড়ি ঘর মেরামত করতে হয়।

স্থানীয় সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, দীর্ঘ তিন যুগ ধরে এ জনপদ মেঘনার ভাঙনে কবলিত। বর্ষায় এ জনপদে মানুষের দুঃখের অন্তঃ থাকে না। বর্ষায় ভাঙন বেড়ে যায়। বেড়িবাঁধ না থাকায় পুরো কমলনগর পানি বন্ধি হয়ে পড়ে। মানুষ থাকে ভয়াবহ আতঙ্কে। কখন যে পানির স্রোতে বাড়ি-ঘর সহ ফসলি জমি তলিয়ে যায়। এ মেঘনার ভাঙনে কবলিত জনপদকে রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এ জনপদ খুব দ্রুত ভাঙনে নিমজ্জিত হবে। তাই মানুষ বর্ষা এলে আতঙ্কে থাকে। কখন কি হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পক্ষে সাইফ উল্লাহ ও আবদুর রহমান দিদার বলেন, জেয়ার এলেই অরক্ষিত হয়ে পড়ে তাদের ইউনিয়ন। পানি বন্দি হয়ে পড়েন হাজার হাজার পরিবার। এসময় দুর্ভোগের শেষ থাকে না। শিশু ও বৃদ্ধরা থাকেন চরম ঝুঁকিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তাঘাট। এমন পরিস্থিতিতে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি। এতে নদী ভাঙন প্রতিরোধ হবে। নিরপাদে থাকবে এ জনপদের মানুষ।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যারয় সূত্রে জানা যায়, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় ৩৫ কিলোমিটার নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা কথা। প্রথম পর্যায়ে গত বছর কমলনগরে এক কিলোমিটার ও রামগতিতে সাড়ে চার কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে কমলনগরে আট কিলোমিটার ও রামগতিতে সাড়ে সাত কিলোমিটার এবং তৃতীয় পর্যায়ে ১৪ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুমোদন না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ থেমে আছে। কাজ থেমে থাকায় বিপাকে এ দুই জনপদ।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসা বলেন,  মেঘনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে দ্বিতীয় পর্যায়ের তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রয়াস নিউজ /টি2

আরও পড়ুন

Sunday, September 19, 2021

সর্বশেষ