ভোলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৮৪ : চিকিৎসাধীন-৪৫

চীফ রিপোর্টার : ভোলায় বেড়েই চলছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়ছে আরো ১৭ জন। এ নিয়ে ২১ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪ জনে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৫ জন। অন্যদিকে ২৩৯ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেলেও ঢাকায় রেফার করা হয়েছে ৭ জনকে। ১ আগস্ট থেকে ২১ আগষ্ঠ পর্যন্ত জেলায় মোট ২৮৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভোলার চার উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সদর হাসাপাতালে ২৮ জন, তজুমদ্দিনে ২ জন, দৌলতখানে ২জন ও চরফ্যাশনে ১৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জন স্থানীয় রোগী হলেও বাকিরা ঢাকা থেকে আগত বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাঃ রথীন্দ্র নাথ মজুমদার। তিনি জানান, রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সদর হাসপাতালসহ সকল হাসপাতালে ডেঙ্গু সনাক্তকরন এন্টিজেন্ট কিডস সরবরাহ করা হয়েছে। এখন থেকে সকল হাসপাতাল থেকেই ডেঙ্গু শনাক্ত করার পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে কোন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সুস্থ্য হয়ে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভোলা পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় মশোক নিধন ও পরিস্কার-পরিচ্চন্নতা কার্যক্রম চলছে। তবুও ডেঙ্গু আতংকে রয়েছেন মানুষ। দিন দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত সাধারণ মানুষ। জ্বরে আক্রান্ত হলেই রোগীরা ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গুর পরীক্ষা-নিরিক্ষা করতে ছুটে আসছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের উপছে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের ওয়েস্টার্ন পাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান জানান, ছোট ছেলেটার দুইদিন ধরে জ্বর, এতে চিন্তিত হয়ে পড়েছি, তাই দুপুরে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলার সাত উপজেলার ছয় শতাধিক স্বাস্থকর্মী মাঠে কাজ করছে।

সচেতনতামূলকসভা, স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রশিক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ নানা কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে। ভোলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক (মেডিকেল অফিসার) ডাঃ ফারজানা খান জানান, এ হাসপাতালে ২৫ ঘন্টায় ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন আছেন ২৫ জন। সবাইকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

এদিনে জেলার মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় ডেঙ্গু পরিস্তিতি অনেক ভালো বলে বলে জানা গেছে। মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহামুদুর রশিদ জানান, এখানে ডেঙ্গু পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ঈদের আগে ৫ জন রোগী থাকলেও এখন কোন রোগী নেই। যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

Thursday, September 16, 2021

সর্বশেষ