সমাজের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এনজিও প্রয়াস |

                 এনজিও প্রয়াস

                          একটি প্রেরণা, অফুরন্ত প্রাণ শক্তি, অগনিত মানুষের ভালবাসা।

ভুমিকা =

হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাংলাদেশ। মাটিতে যার সোনা ফলে। তাই কবি বলেছেন, “আমার সোনার বাংলা ” ক্ষেত ভরা ফসল; পুকুর ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু” এটাই এই বাংলার প্রকৃত রূপ। অপুর্ব শোভা মন্ডিত বাংলার প্রকৃতি শহরের ইট, কাঠ পাথরের পিঞ্জিরে আবদ্ধ মানুষের প্রতিনিয়তই আমন্ত্রন জানাতো।

“ তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে   

আমাদের ছোট গায়”।

ছোট বেলায় পড়েছিলাম শায়েস্তাখাঁর আমলে টাকায় আটমন চাউল পাওয়া যেত। কথায় আছে-“ ধানের দেশ গানের দেশ বাংলাদেশ। ২০১৩ সালে দাড়িয়ে চোখ বন্ধ করলেই যখন উপরের ছবিগুলো কল্পনার পর্দায় ভেসে উঠে তৎক্ষনাৎ প্রচন্ড মুখ অনুভব করে আত্নহারা হই। আবহমান বাংলার এই ঐশ্বর্যশালী রূপ মনে প্রচন্ড দোলা দেয়। সৌভাগ্যবান মনে হয় এই ভেবে যে, আমিতো এই বাংলারই সন্তান। যার ঐশ্বর্যময় অতীত আছে। নয়নমহিতকর প্রকৃতি ছিল। মনভোলানো গান ছিল, প্রেয়সীকে আরও মোহনীয় করে সাজাবার জন্য মসলিন ছিল। সর্বোপরি ঘরে ঘরে প্রাচুর্য ছিল। যে কারনে  বর্গিরা এদেশ লুট করেছিল অনেকবার।

আজ বিংশ শতাব্দির পরে এসে আধুনিক বিশ্বের মানুষের কল্পনার যে সুখ , আর যা স্বপ্ন; তার প্রায় অনেক কিছুই আমাদের ছিল। কিন্তু তার কিছুই নেই কেন? ঊদ্ভাবতার কষাঘাতে যখন চোখ মেলে তাকাই  নজরে আসে নিরন্ন মানুষ একমুঠো অন্নের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। হাজার হাজার গৃহহীন অসহায় মানুষ ঘুমাচ্ছে খোলা আকাশের নীছে। ফুটপাতে এবং রাস্তার পারাপারে। হিংসা ও প্রতিহিংসার জের হিসাবে প্রতিনিয়তই খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, ধর্ষণ হচ্ছে । আজ শিক্ষার নামে অশিক্ষা হচ্ছে । সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বেকার যুবশক্তি “ না ঘরকা , না  ঘটকা ”  অফিস আদালতে সহজ সরল মানুষদের ঠকিয়ে অসৎ উপার্জনের প্রতিযোগিতা চলছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় আপামর জনসাধারণ আজ জিম্মি। ক্রমেই যেন আমরা তলিয়ে যাচ্ছি। ধংস যেন আমাদের দরজায় কড়াঘাত করছে।এর জন্য আমরা দায়ী করবো পুর্ব পুরুষদের না বর্তমান কর্ণধার যারা তাদের, দায়ী আমরা কাউকে করবো না ।  কারণ যাকে করি না কেন, দায় কিছুটা আমাদের ও আছে। দায়ী আমরা সকলেই।

কালের প্রবাহে সমাজ দেহে জমে উঠা আবর্জনায় জনজীবন অতিষ্ঠ, গতিময় জীবনের বন্ধাত্বের সৃষ্টি হয়েছে যার অপসারণ আজ আর কারো  একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের যৌথ প্রচেষ্টাতেই সরাতে হবে। যেমনটি রাস্তার ট্রাফিক জামে পড়লে করতে হয়। যত পাকা চালকই হোক আর বাহুতেই যত শক্তিই থাকুক অপেক্ষা আপনার করতেই হবে। এবং ধীরে ধীরে পথ চলার রাস্তা তৈরী করতে হবে। বসে থাকারও উপায় নেই। চলারও উপায় নেই। তাই সামনের দাবী হচ্ছে এই অবস্থা উত্তরণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম অব্যাহত প্রচেষ্টা আর এই প্রচেষ্টা হতে হবে সকলের আমরা যারা জ্যামের মধ্যে আটকে গেছি। আর এই জ্যামে পড়া মানুষদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুসংখ্যক সহকর্মীকে নিয়ে মোঃ আনোয়ার হোসেন এর দীর্ঘ প্রচেষ্ঠায় অগ্রযাত্রা শুরু হয় প্রয়াস নামে সংগঠনটি। সুচনা লগ্ন থেকে এ সংস্থাটি স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে চলছে। কখনও মাঝপথে থমকে দাড়ায়নি সময়ের বলিষ্ট পদক্ষেপে বর্ষ পরিক্রমায় অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা নিয়ে কালের প্রবাহে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের হতদরিদ্র শিশু যুব ও নারী পুরুষদেরকে ঘিরে এ সংস্থাটি একবিংশ শতকের উপযোগি মানবকল্যানমুখী একটি আত্নসামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে উঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ সংস্থাি টর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহি পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন মনে প্রানে বিশ্বাস করে আমাদের সকলের প্রচেষ্টাতেই শুধু এ জাতীর কল্যাণ হতে পারে। কোন একক প্রতিষ্ঠান তা যত বড়ই হোক কারো একার পক্ষ্যে এ বৃহৎ  জাতির সামগ্রিক মঙ্গল সাধন সম্ভব নয়। নারী, পুরুষ, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে আবাল বৃদ্ধ বণিতা সরকারী ও বেসরকারী সকল মানুষের সমন্বয়ে ও সহযোগিতায় অগ্রসরমান। গতিশীল সমৃদ্ধশালী সমাজ তথা একটি উন্নয়নশীল জাতিতে পরিনত হওয়া সম্ভব। আর এ জন্য আমাদের ক্ষুদ্র ও ব্যক্তি স্বাথের উর্দ্ধে জনস্বার্থকে স্থান দিতে হবে। অন্যথায় এ জাতীর উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়।

সংস্থার নামঃ প্রয়াস (প্রগ্রেস রুরাল আনএমপ্লয়েড এসোসিয়েশন ফর সোসাইটি )।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাকাল ঃ ০১/০১/১৯৯৭ ইং

                                         এক নজরে চলমান কর্মসুচীপ্রকল্পের নাম         উপজেলা                 ইউনিয়ন গ্রাম               উপকারভোগী                     দাতাসংস্থা

০১ শিশু শিক্ষা      রামগতি, কমলনগর       ০২ নং চর বাদাম
 ০৪ নং আলেকজান্ডার

০১ নং চর কালকিনি

০২ নং সাহেবের হাট

০৩ চর লরেঞ্চ

০৫ নং চর ফলকন

০৬ নং পাটওয়ারীর হাট

০৭ নং জাঙ্গালীয়া

     ৩৫ ঁিট কে ন্দ্র             ৩০*১৫=৪৫০              হতদরিদ্র ঝরে পড়া শিশু                     ব্র্যাক

০২ ওয়াটসান ও স্যানিটেশন প্রোগ্রাম      কমলনগর

০৪ নং চর মার্টিন

০৩ নং চর লরেঞ্চ

০৯ তোরাবগঞ্চ ও

০৮ নং চর কাদিরা                      ১১৫৮৬৩

হতদরিদ্র পরিবার ও প্রতিবন্ধি

এনজি ও ফোরাম ফর পারলিক হেল   ০৩ নেটওয়ার্কিং জোরদারকরণ প্রকল্প        কমলনগর

০৯ টি ইউনিয়ন    ১৬৬০  বেকার,   যুব ছেলে মেয়েযুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়

০৪ প্রতিবন্ধি উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা        কমলনগর

০২ নং সাহেবের হাট

০৫ নং চর ফলকন

০৭ নং জাঙ্গালীয়া                 ঈ্রতিবন্ধি                       সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়

০৫ মানবাধিকার ও সু-শাসন          কমলনগর

সকল ইউনিয়ন              ৩৩১৩

অধিকার বঞ্চিত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠি                                              প্রয়াস ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

মোট উপকারভোগি ঃ ১২১৭৩৬ জন।

 বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সংগঠনগুলোতে প্রয়াস এর প্রতিনিধি হিসাবে 

মোঃ  আনোয়ার হোসেন এর দায়িত ঃ

১/ নির্বাহী সদস্য

এডাব কুমিল্লা অঞ্চল

২/ নির্বহিী সদস্য

জাতীয় সঞ্চালন পরিষদ চট্রগ্রাম বিভাগ

৩/ সদস্য

 সার্বিক স্বাক্ষরতা আন্দোলন  

৪/ সদস্য

 আর্ন্তজাতিক যুব ফোরাম

৫/ সভাপতি

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কমলনগর উপজেলা শাখা

প্রাপ্তিসমুহ ঃ

 জেলা প্রশাসক কর্তৃক শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠন এওয়ার্ড ২০০৬

শেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসাবে প্রেসিডেন্ট এওয়ার্ড ২০০৯

বাংলাভিশন কর্তৃক শেষ্ঠ যুব সংগঠক ও সমাজ সেবক হিসাবে একুশে পদক ২০১০

এনজিও ফোরাম কর্তৃক  ওয়াটসান মেলা সফলতা স্বারক ২০১২

এনজিও ফোরাম কর্তৃক ওয়াটসান ও পরিবেশ মেলায় সফলতা স্বারক ২০১৩।

উপসংহার ঃ

পরিশেষে বলা যায় আগামী দিনে উন্নত প্রযুক্তি, হতদরিদ্র ও বেকার যুব সমাজের কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠতম জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করাই প্রয়াস এর কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।

                       ধন্যবাদ

আরও পড়ুন

Thursday, September 16, 2021

সর্বশেষ