কমলনগরে হাঁস-মুরগি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ।

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, কমলনগর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আক্তারুজ্জামান ও সংশ্লিষ্ঠ মাঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ প্রকল্পের অধীনে কমলনগরে সাড়ে তিন হাজার সুফলভোগী রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ ভাগ সুবিধাভোগীর মধ্যে হাঁস, মুরগি, ভেড়া, শেড ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সরবরাহ করা হাঁস, মুরগি ও ভেড়া মরে যাওয়া এবং শেড নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করায় প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। তালিকা তৈরীতে রয়েছে অনেক অনিয়ম। জরিপ না করে সুবিধাভোগী তালিকা প্রণয়ন, প্রশিক্ষণে ভাতা বিতরণ ও সঠিক সময়ে খাবার বিতরণ করা
হয়নি।

এ উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে সুবিধাভোগীদের মাঝে হাঁস-মুরগি ও ভেড়া বিতরনের পরপরই মারা যাওয়া ও খাবার নিম্নমানের হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন সুবিধাভোগী মানুষ। এতে ভেস্তে যাচ্ছে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

ডিপিপি অনুযায়ী প্রতিটি সুবিধাভোগীকে ২০টি হাঁস, ২০টি মুরগি, ৩টি ভেড়া, একটি শেড ভ্যাকসিন ও ১৪৩ কেজি খাদ্য সামগ্রী দেয়ার কথা। কিন্তু নামে বেনামে যে সব উপকরণ ও প্রাণী সরবরাহ করা হয়েছে তাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ায় প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সুফলভোগী। সরবরাহ করা হাঁস-মুরগির বিতরণের পরপরই মারা যায়।জীবিত হাঁস-মুরগির জন্য বর্তমানে যেসব খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে তাও পঁচা ও খাবার অনুপযোগী বলে দাবি সুবিধাভোগীদের।

১১ মে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চর লরেঞ্চ গ্রামের স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাঠে ভেড়া বিতরনের সময় একটি ভেড়া অসুস্থ থাকায় তা ফেলে দেওয়া হয়। এদিকে একই দিনে চর মার্টিন গ্রামে বিতরণের সময় দেখা গেছে অনিয়ম। সুফলভোগিদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে স্বাক্ষর করা সাদা স্টাম্প। নিয়মভঙ্গ করে নেওয়া স্টাম্পের কথা স্বীকার করলেও পরে ফেরত দেওয়া ও তাতে একটি প্রত্যায়ন লেখা হবে বলেও জানান।

এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে কমলনগর উপজেলা দায়িত্ব থাকা উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আক্তারুজ্জামান বলেন সুফলভোগিদের কাছ থেকে কোন অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। শত ভাগ বাস্তবায়নে আরো এক বছর সময় লাগবে বলে মনে করেন কমলনগর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা।

প্রকল্প পরিচালক ডা. নিতাই চন্দ্র দাসের কাছে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সুফলভোগির তালিকা অনেক আগেই হয়েছে। খাদ্য, ঔষধ ও শেড দিতে দেরি হলেও সবাই পাবে। তিনি আরো জানান আপনারা (সংবাদ কর্মীগন) এসব নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই।

বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীনে ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এর আওতায় লক্ষ্মীপুর জেলারব কমলনগর উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন রয়েছে। ২০১৯ সালের শেষ দিকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে প্রকল্প পরিচালক ডা. নিতাই চন্দ্র দাসের তত্ত্বধানে।

অনুসন্ধানে জানা যায় প্রকল্পটির শুরুতেই প্রকল্পটির পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির নিউজ প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় দৈনিকে। উপকূলের কমলনগর উপজেলার ৩৫০০ জন এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী। এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ সুবিধাভোগীর মধ্যে হাঁস, মুরগি, ভেড়া, শেড ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

আরও পড়ুন

Monday, November 29, 2021

সর্বশেষ