স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল সনদপত্র থাকলেও মুক্তিযুদ্ধার তালিকায় ঠাই মিলেনি মরহুম আয়েন উদ্দীনের।

ইব্রাহীম খলীল, আটঘরিয়া( পাবনা) প্রতিনিধি: স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল সনদপত্র থাকলেও মুক্তিযুদ্ধার তালিকায় ঠাই মিলেনি মরহুম আয়েন উদ্দীনের। বাবার স্বীকৃতি আদায় করতে অনেক দপ্তর ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধরনা দিয়েছি। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমার বাবা আয়েন উদ্দীনের স্বীকৃতি মেলেনি। আমিও পাইনি মুক্তি যোদ্ধার সন্তানের স্বীকৃতি। বুকভরা বেদনা নিয়ে এ কথাগুলো বললেন ১৯৭১-এ আটঘরিয়া উপজেলার শ্রীকান্তপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আয়েন উদ্দীনের বড় মেয়ে আয়মালা খাতুন। তিনি জানান, আমার বাবা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ০৭ নং সেক্টরের অধীনে আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিয়া ওয়ালিয়া, ময়না, ঝলমলিয়া, ছাতনী, আহম্মদপুর সহ বিভিন্ন স্থানে পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। এছাড়াও ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার বংশী পাড়া নামক স্থানে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধ আটঘরিয়া থানার মধ্যে সর্ববৃহৎ যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। আর এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন(বিএলএফ) কমান্ডার আনোয়ার হোসেন হোসেন রেণু, (এফএফ) কমান্ডার ওয়াসেফ আলী, আশরাফ আলী, জহুরুল হক প্রমুখ। তাদের সঙ্গে আমার বাবা অংশ গ্রহণ করেছিলেন। আমার বাবার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ভিক্ষা চাইছি।

আমার বয়স ১২ বছর তখন । আমার মনে পড়ে। আমাদের একটা বড় ঘর ছিলো। ঘরে দুইটা রুম করা ছিলো। এক রুমে আমার মা,ভাই, বোন, আমারা থাকতাম। অন্যটিতে মুক্তিযোদ্ধারা থাকতেন । ঘরে অনেক অস্ত্র রাখা হতো। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের ঘড়ে রাতদিন লুকিয়ে থকতো। আমার বাবা তাদের কে খাবার দিতেন। নিয়মিত তাদের দেখাশুনা করতেন। আমার আব্বা নিজের জীবনকে বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধাদের খোঁজ খবর এনে দিতেন। রাতের বেলায় রাজাকারদের ধরে নিয়ে শ্রীকান্তপুর জোলার ওপাড়ে মেরে ফেলতো। আমার বাবা আমাদের বাড়ি থেকে যখন রাজাকারদের ধরে নিয়ে যেতো তখন আমরা আব্বাকে বলতাম আব্বা আপনার পায়ে ধরে কচ্ছি উনাদের মেরে ফেলেন না। আমার বাবা যুদ্ধের সময় অনেক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। তবে আমার বাবার ওপর সবচেয়ে বড় নির্যাতন টা চালানো হয় দেশ স্বাধীনের কিছুদিন পড়ে।

মরহুম আয়েন উদ্দীনের ছোট বোন আছিয়া খাতুন বলেন, আমার ভাই দেশ স্বাধীনের কিছুদিন পড়ে আমাদের বাড়িতে পাবনা মক্তবের পর বেড়াতে আসে। ভাই যখন বাড়ির বাহিরে বের হয়।এসময় রাজাকাররা ভাই কে ধরে নিয়ে স্থানীয় আমবাগানে বেধে মারধোর করে। রডের শিক পুড়িয়ে সাড়া গা পুড়িয়ে দিয়েছিলো। তার পড়ে ভাইকে জেন্দা কবর দেওয়ার জন্য গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিচ্ছিলো। ঐ মূহুর্তে আমি কোরআন পড়ছিলাম। খবর পেয়ে কোরআন শরিফ বুকে করে ভাইয়ের গর্তে নেমে পড়লাম। আর কান্নার স্বরে বলতে লাগলাম কোরআন শরিফ বুকে নিয়ে বলছি আমার ভাইকে আপনারা ছেড়ে দেন আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলো না। এভাবেই আমার ভাইকে প্রাণে বাঁচিয়ে আনি।

মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়েন উদ্দীন মারা যাওয়ার পূূর্বে তার বড় মেয়ে আয়মালার কাছে এই সাটিফিকেট ও প্রত্যায়ন পত্র গুলো রেখেযান। ১৯৯৮ সালের ১৯ অক্টোবর শেখ হাসিনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও আব্দুল আহাদ চৌধুরী চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কতৃক সাক্ষরীত সনদপত্র। মুক্তি সনদ নংঃ০২৪৭২। ৩০-০৩-১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক মহাম্মাদ আতাউল গণি ওসমানী ও আঞ্চলিক অধিনায়ক ৭নং সেক্টর কাজী নুরুজ্জামান সাক্ষরীত দেশরক্ষা বিভাগ, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র গ্রহণ। আনসার ট্রেনিং সাটিফিকেট। সেক্টর কমান্ডার কতৃক ২২-০২-১৯৭২ ইং TO WHOM IT MAY CONCERN সনদপত্র। সিরিয়াল নং -১৯৫।

সাবেক আটঘরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল হক বলেন, বিষয়টা হলো সে যুদ্ধ করে কোন মুক্তিযোদ্ধা না। ১৯৭১সনে ২৬ শে মার্চ থেকে ১৬ ই ডিসেম্বর মধ্যে যারা সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে তারাই কেবল গা মুক্তিযোদ্ধা। এটা হলো ডেফিনেশন। কিন্তু শ্রীকান্তপুরে শুধু আয়েন উদ্দীন না মানে সকলি যে কয়টা আছে। কেবল মাত্র শহিদুল্লাহ খান বাদশা ছাড়া কেউ যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধা হয় নাই। যখন এই তালিকা গুলো হয় তখন ঐযে ওহেদ খানের গোষ্ঠীর সাথে এদের একটু মনোবিরোধ ছিলো। এরা তালিকা ভুক্ত হয়েগেছে। একে আউট করে দিয়েছে এরা আর তালিকা ভুক্ত হতে পারেনি। এখন ওদের যাচাই-বাছাই টা আপিলে পরে আছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে। এখন হইলো আপিলে যখন গর্ভমেন্ট অথাৎ মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল অর্ডার দিবে তখন আমরা যাচাই-বাছাই করে তার পক্ষে দেবো। এটা হলো তাদের পিড়াপিড়ি ঘোড়াফিরা, তাদের অতিরোক্ত চলাফেরার কারনে অতিরোক্ত আমাদের সঙ্গে মেশার কারনে এবার যদি আপিল ডা আসে আমরা করে দেবো। মরহুম আয়েন উদ্দীন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না এই প্রশ্নোর জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সহযোগিতা করেছে, সহযোগী মুক্তি যোদ্ধা আরকি।

যুদ্ধ কালিন কমান্ডার আনোয়ার হোসেন রেণু সাংবাদিক এর জবাবে বলেন- ঘটনা হলো ৫০ বছর আগের কথা। আমি মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ কালিন থানা কমান্ডার ছিলাম। আয়েন উদ্দীন ভাই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু ঐ ভাবে যুদ্ধ করেননি। কিন্তু অনেক সহযোগিতা করা। শেল্টার ঠিক করে দেওয়া, কোন বাড়িতে আছে কোথায় আছে সংবাদ নিয়ে যাওয়া। এর থেকে আটঘরিয়া থানায় নূন্যতম কোন অবদানও নেই তারাও মুক্তিযোদ্ধা হইছে। য়ারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সীমানােও আসেনি, চেহারাও কোন দিন পাইনি। তারা আজ মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ভাতা খাচ্ছে। এগুলো আমরা প্রতিবাদ করার জায়গা খুজে পাইনি। এই অর্থে সে সশস্ত্র যুদ্ধে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলো না। কিন্তু সহযোগিতায় যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। তিনি পূণরায় বলেন, শেল্টার ঠিক করে দেওয়া, আইনুদ্দিন ভাই ঐ জায়গায় খবর টা পৌঁছায়ে দাও, দিয়েছে। তিনি গুপ্তচর হিসেবে

আরও পড়ুন

Thursday, September 16, 2021

সর্বশেষ