দৌলতখানের বাংলাবাজার এলাকায় কাজল মেম্বারের দখল বাণিজ্য ॥ রেহাই পায়নি চিতা খোলার জমিও। 

ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার কাজল মিয়ার নামে চিতা খোলার জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও আওয়ামীলীগ অফিস দখল করে ভাড়া দেয়া, জমি দখল, সরকারী জমি দখল করে ঘর নির্মাণ, সরকারী টলঘর ভাড়া দেওয়া এবং বোরক এর কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নেয়াসহ তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দাইমুদ্দিন এর ছেলে মোঃ কাজল গত ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে বাংলাবাজারের দক্ষিণ মাথায় সরকারী টলঘরের পাশে সাইকেল-রিক্সা’র মেইকার ছিলেন। কয়েক বছর পর রাজনীতিতে যোগদানের পর মেম্বার বনে যান। সম্প্রতি বাংলাবাজার থেকে দৌলতখান রোডে আওয়ামীলীগ অফিস দখল করে মাইক্রোবাস, নসিমন ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনার পর অনুসন্ধান করলে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের এ অফিসে সন্ধ্যার পরে জুয়ার আসর বসে। এছাড়া বাংলাবাজার-দৌলতখান রোডে সফিজল মেম্বারের ঘরের পাশের হিন্দুদের চিতা খোলা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ, সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সামনের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ, সরকারী টলঘর দখল করে ভাড়া প্রদান করেন। এমনকি বাজারের মধ্যে সরকারী জমি দখল করে ঘর নির্মাণও করেন তিনি। মোফাজ্জল চেয়ারম্যানের বাসার সামনের জমি দখল করে ঘর উঠান। প্রবির হত্যার আসামী তার ভাগ্নে সবুজকে দিয়ে বোরাক প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা তুলেন। তিনি সবুজকে দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।
আরো জানা যায়, নারী কেলেঙ্কারীতে তার জুড়ি মেলা ভার। এক প্রবাসির স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে বাংলাবাজারের সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের পিছনে একটি ঘর উঠিয়ে বসবাস করেন। এমন হাজারো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। যদিও তার আগের স্ত্রী ওই এলাকার মহিলা ইউপি সদস্য।
স্থানীয় এক প্রবীণ লোক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নেই যা কাজল মেম্বার করে নাই। যদি আপনি আমার কথা বলে দেন, তা হলে কাজল মেম্বার আমার জিহ্বা-টা কেটে নিবেন। তিনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন অত্র এলাকার হিন্দুদের উপরে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে আগে সাইকেল-রিক্সার মেইকার ছিলেন, কিন্তু রাজনীতির কারণে এখন কোটি টাকার মালিক।
অভিযোগ সম্পর্কে কাজল মেম্বারের কাছে জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামীলীগ অফিস ভাড়া দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। জোড়পূর্বক হিন্দুদের চিতা এবং সরকারী জায়গায় দোকান ঘর নির্মাণ করে তা ভাড়া দিচ্ছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মোবাইলে আপনার সাথে কোন কথা বলব না, আপনি ক্যামেরা নিয়ে আইস্যা সকল কিছুর ছবি তুলে পেপারে দিয়েন।
দৌলতখান উপজেলা হিন্দু-বৈদ্য-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুমন প্রতাপ সিং বলেন, হিন্দুদের চিতা খোলার জায়গাও দখল করে নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভোলা-২ আসনের এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়েছিলাম। এখন তিনি যে রায় দেন, তা আমরা মেনে নেব। আমাদের এমপি মহোদয় অত্যন্ত ভাল মানুষ। আমার বিশ্বাস তিনি সঠিক রায়-টি দিবেন।
এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না, কেউ অভিযোগ দিলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বাংলাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তাফা।

 

আরও পড়ুন

Sunday, November 28, 2021

সর্বশেষ