বিনোদনের আরেক নাম মাদারীপুর লেকপার।

রাকিব হাসান, মাদারীপুর।  মাদারীপুর শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান ‘লেকপাড়’। শহরের বিনোদনের জায়গা খুঁজতে গেলে যে কেউই দেখিয়ে দেবে জায়গাটি। এ লেক ঘিরে মানুষের পদচারণা থাকে সারাক্ষণই। সকালের দখলটা থাকে৷ যেন স্বাস্থ্য সচেতনদের, দুপুরে ক্লান্ত পথিক আর বিকেল থেকে রাত অবধি বিনোদনপ্রেমীদের।
মাদারীপুর শহরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র লেকটির নাম ‘শকুনি লেক’। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি কৃত্রিম লেকের পাড়ে ভিড় জমে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবেও।
সেই সঙ্গে বাহারি সৌখিন পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন দোকানিরা।
প্রতি ঈদের ছুটিতেই দর্শনার্থীদের মিলনমেলা বসে লেকের পাড়ে।
জমে ওঠে হালকা খাবারে দোকান ও বাচ্চাদের নানা খেলনা সামগ্রীর দোকান। লেকের চারপাশের স্থাপিত বিশ্রাম বেঞ্চে থাকে অবসরযাপনকারীদের ভিড়।
সম্প্রতি সংস্কারকরে লেকের সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। সারাদিনই থাকে মানুষের পদচারণা।
তবে ভিড় বাড়ে দিনের সূর্য যখন বিকেলের দিকে গড়িয়ে যায় তখন।
স্থানীয়রা বলছেন, শকুনি লেকের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শেষ হওয়ায় জেলার মানুষের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। কারণ, এটাই এখানকার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। শুধু শহরেরই নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও ঈদের ছুটিতে এই লেকে ঘুরতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিনোদনপ্রেমী মানুষ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৮৮৪ সালে শকুনি লেকটি খনন করা হয়। দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। পরে ২০১৩ সালে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু হয়। কয়েখটি প্রকল্পের অধীনে লেকের একটি অংশে শিশুদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয়েছে শিশুপার্ক। লেকের পানিতে নামানো হয়েছে প্যাডেল বোট।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কৃত্রিমভাবে এ লেক সৃষ্টি করা হলেও সময়ের ব্যবধানে নিজ থেকেই সেখানে ফুটে উঠছে প্রাকৃতিক চিত্র। মাদারীপুর শহরের মাঝামাঝি শকুনি নামক এলাকায় ২০ একর জমির ওপর লেকটি খনন করা হয়।
প্রচলিত রয়েছে, লেকটি খনন করতে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে দুই হাজার শ্রমিক এনেছিল। এক টানা কাজ করে প্রায় ৯ মাসে এর খনন কাজ সম্পন্ন করেন তারা।
‘শকুনি লেক’ প্রকল্পে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, শহীদ কানন, শিশু পার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, এমপি থিয়েটার মঞ্চ, শান্তি ঘাটলা, পানাহারসহ মাদারীপুর ঘড়ি নামে একটি সুউচ্চ টাওয়ার।
লেকে ঘুরতে আসা শরিয়াতপুরবাসী হোসেন আলী  বলেন, প্রায় প্রতিদিনই লেকে মানুষের সমাগম ঘটে। তবে ভিড় বেশি হয় ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবের সময়। ঈদকে কেন্দ্র করে এই লেকে যেনো দর্শনার্থীদের মিলনমেলা হয় প্রতিবছর।
ঢাকা থেকে আগত মাহিনুর বেগম বলেন, মাদারীপুর লেকের অনেক চিত্র আমি ইন্টারনেটে দেখেছি, আজ আমি আমার নিজ চোখে এসে ঘুরে অনেক মুগ্ধ হয়েছি দেখার মত একটি স্থান উপভোগ করার মত একটি স্থান এখানে একটি বিশাল বিনোদন কেন্দ্র। না আসলেই আমি বুঝতে পারতাম না এতো সুন্দর  একটু মনোমুগ্ধকর জায়গা।
‘শুধু মাদারীপুর শহর-ই নয়, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসেন এখানে। মফস্বল শহরে অন্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় এখানেই এসে সময় কাটায় মানুষ,’ যোগ করেন তিনি।
মাদারীপুর জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের  সাধারণত সম্পাদক সাংবাদিক বেলাল রিজভী বলেন, লেকটির নাম মনে নিলে আগে লেকের উন্নয়নের কথা ভাবতে হয় এ যেন মনোমুগ্ধকর । মানুষ যতো ক্লান্ত হয়ে পরুক না কেন এই লেকে আসলে তার ক্লান্ত  মুছে যায় সৌন্দর্য দেখে।এখানে দূরদূরান্ত এবং বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এই লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসে।  আরো কামনা  করি মাদারীপুর শুকনি লেকসহ শহরের পরে থাকা সকল লেক  উন্নয়ন দ্বারা যেন অব্যাহিত থাকে।
মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন বলেন, লেকটি শুধু মাদারীপুরবাসীর চিত্ত বিনোদনের জন্য নয়, জেলাকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতেও এর গুরুত্ব ব্যাপক। তাই লেকটিকে বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

Wednesday, December 1, 2021

সর্বশেষ