ভোলায় পাকা রাস্তার ওপরে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধ ॥ জনদুর্ভোগ, ঝূঁকিতে পরিবেশ

ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের পৌর কাঠালী এলাকায় বিশ্বরোডের পাকা সড়কের ওপর ময়লা আবর্জনার স্তূপ দেখে মনে হয় এটা রাস্তা তো নয় যেন ময়লার ভাগাড়। পৌর এলাকার সকল ময়লা, আবর্জনাগুলো পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাক দিয়ে এখানে ফেলা হচ্ছে। ওই সড়কের পাশে পৌরসভার ক্রয়কৃত জমির ডাম্পিং জোনে পৌর এলাকার ময়লাগুলো ফেলার পর এখন রাস্তার ওপরে ময়লা আবর্জনা ফেলে রেখে স্তূপ করে রেখেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, জেলা সদরের বাহিরের ছয় উপজেলার বাসিন্দাদের সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তাদেরকে এ সড়ক দিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ভোলা খেয়াঘাট ও বরিশালের উদ্দেশ্যে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার ব্যাংকেরহাট, ভেলুমিয়া, পৌর কাঠালী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ চলাচল করছে। এ সড়ক দিয়েই যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, নসিমন-করিমন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রিকশা-সাইকেলসহ প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। ওই এলাকার পাশে অবস্থিত আলহাজ্ব সুলতান আহমেদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাতায়াত করছে প্রতিদিন। রাস্তার ওপরে ময়লার দুর্গন্ধে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তাদেরকে প্রতিদিন ওই এলাকা দিয়ে নাক চেপে ধরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। উপজেলার ব্যস্ততম সড়কে দীর্ঘদিন ধরে এমন চিত্র দেখে বিরক্ত হয়ে গেছে সবাই। এর ফলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের চওড়া এ রাস্তাটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে সড়কের ওপরে এ ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকায় বছরের পর বছর এভাবে আবর্জনা পড়ে থাকায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করলেও কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছে না।
ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুকুর-বিড়াল, বক-কাক ও শালিক পাখিসহ বিভিন্ন পশু-পাখি রাস্তার ওপরে জমে থাকা ময়লাগুলো খাচ্ছে, আর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়াদৌড়ি করছে।
এ ব্যাপারে আলীনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক সোহাগ বলেন, আমার বাড়ি এই এলাকায়। যাত্রী নিয়ে এলাকা থেকে সড়কে জমে থাকা ময়লার স্তূপের সামনে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে প্রতিদিন। তিনি বলেন, গন্ধে প্রচুর গ্যাসের লইগ্যা দমটম বন্ধ হইয়া যায়। ময়লার পানিতে গাও ভই্র্যা যায়।
শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকার অটোরিকশা চালক নাছির বলেন, বিশ্ব রোডের আলীনগর ইউনিয়ন এলাকায় ময়লার স্তূপের সামনে খিচ দিয়া রিকশা চালাইতে হচ্ছে।
স্থানীয় চায়ের দোকানি জুয়েল বলেন, ময়লার স্তূপ থেকে আমার চায়ের দোকান প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তব্ওু ময়লার দুর্গন্ধে এখানে চা বিক্রি করতে পারছি না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কি আর কমু ? গাড়ির চাক্কার লগে, বাতাসের লগে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়। এ এলাকা দিয়ে যাওয়া-আসা কঠিন হয়ে যায়।
পত্রিকা বিক্রেতা মোঃ জাফর বলেন, আমি এই এলাকায় অন্ততঃ ১৩ জন গ্রাহকের কাছে পত্রিকা বিক্রি করতাম। কিন্তু ময়লার স্তূপের কারণে এখন আর এ এলাকায় পত্রিকা বিক্রি করতে পারছি না।
ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী বরিশাল বিএম কলেজের এক শিক্ষক হাসনা হেনা অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, রাস্তার ওপরে ময়লার স্তূপ। যেন দেখার কেউ নেই।
আলীনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ তরিকুল ইসলাম (তরু) জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে পৌরসভার ময়লা আবর্জনার গন্ধে কষ্টে দিন কাটাইতাছি। এই ময়লাগুলো গাড়ির চাক্কায় চাক্কায় গন্ধ ছড়াচ্ছে পুরো এলাকায়। এর ফলে পরিবেশ দুষিত হয়ে গেছে। মশা-মাছির উপদ্রবও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, এ থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী গত প্রায় দুই মাস আগে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছিলেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
আলীনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ বশির আহমেদ বলেন, সড়কের ওপরে ময়লার স্তূপের কারণে এখন এখানকার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে গেছে। এ থেকে মুক্তি পেতে ইতিপূর্বে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানো হয়েছে। কিন্তু পৌরসভা কোন কর্নপাত করছেনা।
এ বিষয়ে ভোলা পৌরসভার সেনেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ ফারুক জানান, পৌরসভার একমাত্র ভেকুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানে ময়লা ডাম্পিং করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ময়লাগুলো রাস্তায় জমা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভেকুর অপারেটর একবার চট্টগ্রাম থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া ভেকুর যন্ত্রাংশ আনলেও তা খাটেনি। ফলে আবার ঢাকা থেকে যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে। তবে, খুব শিগগির ভেকুর মেরামত করা হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
ভোলা পৌরসভার নির্বাহি প্রকৌশলী আঃ সাত্তার বলেন, পৌরসভার জন্য এটা এখন একটা বিষফোঁড়া হয়ে গেছে। বিষয়টির ব্যাপারে আমরা নিজেরাও বিব্রত। তিনি আরও বলেন, সেখানে একটা ভেকু সবসময় থাকা দরকার। কিন্তু আমাদের পুরনো একটা ভেকু ছিল। সেটিও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে গত দুই বছর ধরে কোন কাজ করা যাচ্ছে না। তাই ওই এলাকার সড়কে প্রতিদিন আবর্জনা ফেলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। গত দুই দিন আগে ডিসি স্যারও আমাকে এ বিষয়ে তাগাদা দিয়েছেন। তবে, ভেকুর যন্ত্রাংশ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই ভেকুটি মেরামত করা যাবে। তখন আর এ সমস্যা থাকবে না। এ ছাড়া আমরা অন্য একটি স্থানে পৌরসভার ময়লা ডাম্পিংয়ের জন্য জায়গা নিয়েছি। কিছুদিনের মধ্যে সেখানেও ময়লা ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর আর রাস্তায় ময়লা পড়বে না।

আরও পড়ুন

Wednesday, December 8, 2021

সর্বশেষ