সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ভোলায় বিএমএ ও বিডিইআরএম’র মানববন্ধন

ভোলা প্রতিনিধি ॥ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ে ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার প্রতিবাদে ভোলায় মানববন্ধন করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে মন্দির এবং বাড়িঘরে হামলা হয়েছে, তাতে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের হামলা সনাতন ধর্মালম্বীদের স্বাভাবিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। তাঁরা এসব ঘটনায় অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বি এম এ এর সভাপতি ডা. এটিএম মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি-ডা.এম ডি মিজানুর রহমান। বিএমএ সেন্ট্রাল কাউন্সিলর (ঢাকা মহানগর) ডাক্তার মেহেদী হাসান বিপ্লব এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ডা. গোলাম রাব্বী স্বাক্ষর, ডাক্তার জয়ন্ত সাহা, ডা. সবুজ পাত্র, ডা. ফয়জুল হক, ডা. সাইফুর রহমান, নার্সিং সুপার নাসিমা বেগম প্রমুখ। মানববন্ধনে হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে একই সময়ে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) ভোলা জেলা শাখা। সংগঠনটির জেলা কমিটির সভাপতি চন্দ্র মোহন এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, জেলা সুজন এর সভাপতি মোবাশ্বের উল্যাহ চৌধুরী, আরটিভির জেলা প্রতিনিধি অমিতাভ রায় অপু, জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুল ইসলাম, জেলা বিডিইআরএম এর উপদেষ্টা মোঃ আলাউদ্দিন, সহ-সভাপতি সম্ভু লাল হেলা, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভানু লাল দে, সংগঠনের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি রনজিত চন্দ্র বেপারী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শারদীয় দূর্গাপূজা চলাকালিন সময়ে কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ে দূর্গা প্রতিমার পাশে পরিকল্পিতভাবে রেখে দেওয়া একটি পবিত্র কোরআন শরীফকে নিয়ে সেখানে মন্দিরসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরভাংচুর ও হামলা করা হয়। এরপর গত ১৭ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক তরুনের ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়া জেলে পল্লীর ৬০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে ২৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। মর্মান্তিক এ ঘটনায় মুহুর্তেই ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয় ৬০ টি পরিবার। হামলা করা হয় ফেনী, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এতে সারাদেশে ৭০ টি পূজাম-পে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বক্তার আরও বলেন, আইন ও শালিস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট বছর নয় মাসে সারাদেশে দলিত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ৩ হাজার ৬৭৯টি হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৯টি বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনা এবং হিন্দুদের ৪৪২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা, পূজমন্ডপ, মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৬৭৮টি। এসব হামলায় আহত হয়েছে ৮৬২ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং নিহত হয়েছেন ১১ জন। বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে বিশেষ এক গোষ্ঠীর উপর এধরণের হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুন্ন করছে না সেইসাথে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে।
মানববন্ধনে বক্তারা সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ সময় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলিত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, নির্যাতন, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এ ধরনের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার ও এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে জোর দাবী জানান।

আরও পড়ুন

Wednesday, December 8, 2021

সর্বশেষ