রামগতিতে নির্মূল কমিটির সংবাদ সম্মেলন

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে
স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আহাম্দ মিয়া পোষ্য,
সংখ্যালঘুদের সম্পদ ও সম্পত্তি লুণ্ঠনকারী, নদী ঘাটের চাঁদাবাজ, মনোনয়ন
বাণিজ্যকারীদের বহিষ্কারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল
নির্মূল কমিটির।
রবিবার (৫ জুন) সকালে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপজেলা কার্যালয়ে এ
সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি
সাধারন সম্পাদক, যুদ্ধকালীন এফএফ কমান্ডার মরহুম আবুল কালাম মো: আজাদ উদ্দিন
সাহেবের মেয়ে নাহিদা ফরিদা মুনমুন। এ সময় উপিস্থিত ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল
কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বৃহত্তর রামগতি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি
মোহাম্মদ হাসান মোরশেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুজ জাহের কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা ও
নির্মূল কমিটির উপজেলা সভাপতি শাহাব উদ্দিন প্রমূখ।
তারা লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ একটি ঐতিহাসিক
রাজনৈতিক দল। মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে
দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রামের বিনিময়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এর
অভ্যুদয় ঘটে। দীর্ঘ সংগ্রামের বিনিময়ে বহু আওয়ামী নেতাকর্মীর শাহাদাত বরণের
মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ
হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের মানচিত্রে উন্নয়নের রোল মডেল।
মেঘনার উপকূল বেষ্টিত ৩৪৭ বর্গ কিমি এর রামগতি একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রামগতির বহু বীর
সন্তান অবদান রেখেছেন। এক সময় রামগতি থানা আওয়ামীলীগ একটি কর্মী বান্ধব
সংগঠন হিসেবে রামগতিতে মানুষের রাজনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।
২০০৩ সালে একটি অসাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনাব আবদুল ওয়াহেদ সাধারন
সম্পাদক পদ দখল করেন। যার পিতা ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কুখ্যাত শান্তি
কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ও তার পরিবার যুদ্ধকালীন সময়ে লুটপাট,
সংখ্যালঘুদের বাড়ি দখল, নারী নির্যাতন এবং পাকিস্থানিদের সহযোগী ছিলেন। যার
কারণে যুদ্ধকালীন সরকার তার বাবার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছিলো। তাদের
অত্যাচারে এবং সংখ্যালঘুদের ভিটে মাটি উচ্ছেদের কারণে বহু পরিবার ভারতে পালিয়ে
যায়।
তিনি দীর্ঘ ২০ বছর রামগতি থানা আওয়ামীলীগের কোন সম্মেলন করতে সক্ষম হননি।
ইউনিট কমিটি গুলোতে ত্যাগী নেতাকর্মী ও ছাত্র নেতাদের বাদ দিয়ে জামায়াত,
বিএনপি, জাসদ ও বিকল্প ধারার লোকদের বসিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্য করে আসছে। তাদের
সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নং
জি আর ৬৮/২০২০ইং চলমান।
২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থীকে জেতানোর জন্য বিকল্প ধারার প্রার্থীর পক্ষে ভোট করে
নৌকা প্রার্থীকে হারিয়ে দেন। এজন্য রামগতি থানা আওয়ামীলীগ তাকে দল থেকে
বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠায়।
বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় লোকদের বাদ দিয়ে বিএনপি নেতা গোলাম
ছারোয়ার, জাসদ নেতা আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, বিকল্প ধারার নেতা
মোহাম্মদ নুরুল আমিন হাওলাদারকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে
চেয়ারম্যান বানান। যাদের পরিবার বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী পরিবারের লোকদের উপরে
অত্যাচার নির্যাতন করে আসছিলো। নিজে জাতীয় পার্টির নেতা হিসেবে উপজেলা
চেয়ারম্যান থাকাকালীন ব্যাপক লুটপাট করেন ও দুর্নীতিগ্রস্থ ছিলেন।
তার এই দীর্ঘ ২০ বছরে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মামলা-
হামলার শিকার হয়ে আসছে । সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিকাশ না করে
আওয়ামীবিরোধী লোকদের পুনর্বাসিত করেন। তার আত্মীয় স্বজন সব সময় নৌকা
বিরোধী ভোট করে আসছে। দুর্নীতি ও জনবিচ্ছন্নতার কারণে গত উপজেলা
নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি নিজে পরাজিত হন। বড়খেড়ী ইউনিয়নে তার
নিকট আতœীয়কে দিয়ে নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে পরাজিত হন। তাদের
বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো দলীয় কর্মীদের বিভিন্ন মামলা-হামলায়
লিপ্ত থাকে। চরগাজী ইউনিয়নে তার ভাতিজা নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করে
পরাজিত হয়। ইউনিয়নের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থী সর্বোচ্ছ ভোট পেলেও
তার নিজ কেন্দ্রে নৌকা প্রার্থী ০৪ ভোট পায়। তিনি রামগতির বিভিন্ন মৎস্য
ঘাট থেকে চাঁদা আদায় করেন এবং জেলেদেরকে তার মনোনীত লোকদের কাছে মাছ
বিক্রয় করতে বাধ্য করেন।
সম্প্রতি আলেকজান্ডার ইউনিয়ন নির্বাচনে থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক
সম্পাদক, ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতা আবু নাসের কে কেন্দ্র ও জেলার মনোনয়নে একক
নাম দেওয়ার কথা থাকলেও তার নাম এককভাবে না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে আকবর নামক
একজনকে দলীয় মনোনয়নের ব্যবস্থা করে দেন এবং প্রতিপক্ষের লোক থেকে টাকা গ্রহন
করে আকবরকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করেন। যার কারনে দল মারাত্মক ভাবে
ক্ষতিগ্রস্থ হয়। দীর্ঘ ২০ বছর তার পদকে ব্যবহার করে নিজে অঢেল অবৈধ সম্পত্তির মালিক
হয়েছেন, কিন্তু সংগঠনকে তিনি বিকাশ করতে পারেন নাই এবং দলকে জনবিচ্ছিন্ন
সংগঠনে পরিণত করেছে।
মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও জনকল্যাণ মুখী রাষ্ট্র পরিচালনার
কারণে শিক্ষিত, স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের পরিবার ও বিভিন্ন দলের যোগ্য ব্যক্তিরা বাংলাদেশ
আওয়ামীলীগের পতাকাতলে শরীক হতে চায়, কিন্তু এসকল মেরুদন্ডহীন অসৎ নেতৃত্ব তার
প্রতিবন্ধক।
তারা আরো বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ
হাসিনার কাছে আবেদন, দল থেকে দুর্নীতিগ্রস্থ ও জনবিচ্ছিন্ন উপজেলা সাধারণ
সম্পাদককে অব্যাহতি দিয়ে ত্যাগী আওয়ামীলীগ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ছাত্র
নেতাদের দিয়ে একটি কর্মীবান্ধব রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করে
রামগতির রাজনৈতিক উন্নয়ন সাধনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য রামগতির জনগণের পক্ষ
হতে আবেদন জানান তারা।

 

আরও পড়ুন

Sunday, October 2, 2022

সর্বশেষ