আমার জীবন ভোলার জন্য উৎসর্গ করেছি , তোফায়েল আহমেদ

ভোলা প্রতিনিধি ॥ ভোলার গণমানুষের নেতা, ভোলার অভিভাবক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সফল বাণিজ্যমন্ত্রী আলহাজ¦ তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আমি ভোলাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমার জীবন ভোলার জন্য উৎসর্গ করেছি। আমি ভোলার জন্য যা করেছি, বিগত জোট সরকারের আমলে তা করতে পারেনি। গতকাল বুধবার বিকেলে শহরের বাংলাস্কুল মাঠে পৌর আওয়ামীলীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরাতন সদস্যদের নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সূধী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য কালে এ সব কথা বলেন। বক্তব্যের শরুতে বাণিজ্যমন্ত্রী নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সকালের কাছে দোয়া ও মাগফেরাত কামনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, ভোলায় প্রচুর গ্যাস ও বিদ্যুৎ রয়েছে। তা প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে গ্যাস পৌছে দেয়া হবে। জোট সরকারের আমলে ভোলায় ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল, আর এখন ভোলায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। গ্রামে এখন আর কোন সাকো দেখা যায় না। সকল সাকোগুলো ব্রীজে উন্নয়ন করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করেছি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ভোলাকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে তা রক্ষা করেছি। জোট সরকারের মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর কথা উল্লেখ্য করে বলেন, তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু তিনি ভোলার জন্য কিছুই করেননি। নদী ভাঙ্গন রোধে ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকার পরও তিনি তা ব্যয় করতে পারেন নি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির বিরুদ্ধে কোন প্রতিশোধ নেয়নি। আমাকে দুই দুইবার ১৯৭৯ ও ২০০১ সালে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। বিএনপির নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদকে জনসভা করতে দেয়নি। লালমোহনের মালেকের ২টি চোখ উপড়ে দিয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সেখানকার হিন্দু মা-বোনদের প্রতি নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। তাদেরকে পুকুরের পানির মধ্যে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে এবং মায়ের সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। কতটা নির্মম হলে এমন পৈচাষিক কর্মকান্ড করতে পারে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ সরকারের অধিনেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আশা আর কোনদিনই ফিরে আসবে না। যদি কেউ তার স্বপ্ন দেখেন তা হবে দুঃস্বপ্ন। তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পান্নোত থেকে উন্নত দেশে রুপান্তিরিত হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি নজিবুল্লাহ নাজু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মোশারেফ হোসেন, পৌর মেয়র আলহাজ¦ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির প্রমূখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আশরাফ হোসেন লাবু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, এনামুল হক আরজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ সাফিয়া খাতুন, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী এডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস জুবলি, পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিল এবং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সম্পাদকসহ আওয়ামীলীগের সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলী নেওয়াজ পলাশ।

সমাবেশকে সফল করার জন্য বিকেল থেকে পৌরসভার সকল ওয়ার্ড থেকে নেতা-কর্মীরা বাদ্য-যন্ত্র বাজিয়ে, বিভিন্ন শ্লোগানের মাধ্যমে বাংলাস্কুল মাঠে এসে জড়ো হতে থাকে। সমাবেশের আগে বাংলাস্কুল মাঠ যেন জন সমুদ্রে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন

Tuesday, September 21, 2021

সর্বশেষ